Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লালগড়ে অবিলম্বে আলু নষ্টের ক্ষতিপূর ও হাতি তাড়ানোর দাবি, বিট অফিসে তালা

লালগড়ে অবিলম্বে আলু নষ্টের ক্ষতিপূর ও হাতি তাড়ানোর দাবি, বিট অফিসে তালা
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: লালগড়জুড়ে হাতির পাল তাণ্ডব চালাচ্ছে। বিঘার পর বিঘা জমির আলু নষ্ট হচ্ছে। হাতির পালে শাবক সহ চল্লিশ থেকে বিয়াল্লিশটা হাতি রয়েছে। জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে সেগুলি জমির আলু খেয়ে যাচ্ছে। গ্ৰামবাসীদের অভিযোগ, বনবিভাগের কর্মীদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার সকালে লালগড়ের ভাউদি বিট অফিসের গেটে স্থানীয় চাষিরা তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ফসলের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে দাবি তোলেন। বনবিভাগের আধিকারিকদের আশ্বাসে গ্ৰামবাসীরা গেটের তালা খুলে দেন।
Advertisement
ঝাড়গ্রামে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন হাতির করিডর এলাকায় বনবিভাগের কর্মীরা পাহারায় ছিলেন। এক বন বিভাগ থেকে অন্য বন বিভাগে হাতি ঢোকা আটকাতে নজরদারিও ছিল। জেলায় থাকা একাধিক হাতির পাল গ্ৰামীণ এলাকায় ঢুকে পড়ে। বিঘার পর বিঘা জমির আলু, ধান খেয়ে নিচ্ছে। চাষিরা  আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। লালগড় এলাকার চাষিদের অভিযোগ, এলাকায় হাতির পাল একবার ঢুকে পড়লে বের করা যাচ্ছে না। গ্ৰামবাসীরা হাতি তাড়াতে গেলে পাশ্ববর্তী গ্ৰামের বাসিন্দারা বাধা দিচ্ছে। হাতি তাড়ানো নিয়ে মাঝে মধ্যেই হাতাহাতি হচ্ছে। বনবিভাগের কর্মীদের দেখা না পাওয়ায় সমস্যা বড় আকার নিয়েছিল। গত ছ’ দিন ধরে মেদিনীপুর বন বিভাগের অন্তর্গত লালগড়ের আগলচোল, চাপিটোটা, বিটডাঙা, দক্ষিণশোল, ডুঙুরকোঠা, কাঁকড়াদাড় এলাকায় হাতির পাল বিঘার পর বিঘা জমির আলু খেয়ে নষ্ট করেছে। গ্ৰামবাসীদের অভিযোগ, এলাকায় বন বিভাগের কর্মীদের দেখা পাওয়া যায়নি। সেই জন্য বিট অফিসে তাঁরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। চাপি টোটা গ্ৰামের বাসিন্দা সঞ্জয় মাহাত বলেন, দেড় বিঘার ওপর জমিতে আলু লাগিয়েছিলাম। হাতির পাল এসে বেশিরভাগ আলু খেয়ে গিয়েছে। গত ছ’ দিন ধরে হাতির পাল এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে, কিন্তু বনবিভাগের দেখা নেই। বাধ্য হয়েই গ্ৰামবাসীরা এদিন ভাউদি বিট অফিসে তালা লাগিয়ে লাগিয়ে দেন। বন বিভাগকে দ্রুত ফসলের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিতে হবে। অপর গ্ৰামবাসী সনাতন মাহাত বলেন, গত বছর হাতির হানায় ফসলের ক্ষতি হয়েছিল। তার ক্ষতিপূরণ এখনও পায়নি। এবারও ক্ষতিপূরণ পাব কিনা জানি না। বনবিভাগ অন্তত হাতির পালকে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাক, এটাই আমাদের দাবি। ডুঙুর কোঠা গ্ৰামের বাসিন্দা কার্তিক মান্ডি বলেন, হাতি গ্ৰামে ঢুকলে আমরা তাড়াতে পারছি। পার্শ্ববর্তী গ্ৰামের মানুষ তাদের ফসল বাঁচাতে হাতি ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। যার জেরে এক গ্ৰামের বাসিন্দাদের সঙ্গে অন্য গ্ৰামের বাসিন্দা অশান্তি তৈরি হচ্ছে। বিট অফিসগুলোতে রাতে বন বিভাগের কর্মীদের দেখা মেলে না। বনবিভাগের আধিকারিকরা দুপুর আড়াইটা নাগাদ আসেন। ক্ষতিপূরণের আশ্বাসের সঙ্গে হাতি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন। এরপরেই গেটের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। লালগড় রেঞ্জের বন আধিকারিক লক্ষ্মীকান্ত মাহাত বলেন, গ্ৰামাসীদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। হাতির পালকে এলাকা থেকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ