সংবাদদাতা, লালবাগ: লালবাগে বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জখম ফরিদ শেখের স্ত্রী চিনা বিবিকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। বুধবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। মহকুমা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ফরিদ শেখ স্ত্রীর সঙ্গে ওই বাড়িতেই থাকত। ঘটনার দিনও চিনা বিবি বাড়িতেই ছিল। তবে বিস্ফোরণের পর গা-ঢাকা দেয়। সোর্স মারফত খবর পেয়ে লালবাগের একটি গোপন ডেরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ৩ জানুয়ারি বিকেলে মুর্শিদাবাদ শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জনবহুল রামকৃষ্ণপল্লিতে ফরিদ শেখের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ হয়। ঘটনায় ফরিদ শেখ মারাত্মক জখম হয়। প্রাথমিকভাবে তাকে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিস প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, ওইদিন বিকেলে পাঁচিল ঘেরা বাড়ির উঠোনে টালির ছাউনির নীচে ফরিদ শেখ বোমা বাঁধছিল। সেসময় কোনওভাবে বিস্ফোরণ হয়। চিনা বিবি অক্ষত ছিল। ঘটনার পর সে স্বামীকে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও পরে তার হদিস পাওয়া যায়নি। অবশেষে ঘটনার ছ’দিনের মাথায় পুলিস চিনা বিবিকে গ্রেপ্তার করেছে। বোমা বিস্ফোরণে জখম ফরিদ শেখের সঙ্গে মুর্শিদাবাদ পুরসভার চেয়ারম্যান ইন্দ্রজিৎ ধরের ছবি ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায়। বিরোধীরা ফরিদ শেখকে চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করে। যদিও ইন্দ্রজিৎবাবুর দাবি, তাঁকে মারার জন্যই ফরিদকে বোমা বাঁধার বরাত দেওয়া হয়েছিল। তিনি জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়ে সর্বক্ষণের জন্য একজন নিরাপত্তারক্ষীর আবেদন জানিয়ে ছিলেন। সম্প্রতি জেলা পুলিসের তরফে তাঁর নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে একজন সশস্ত্র কনস্টেবলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।



