Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লালবাগে আত্মহত্যা বৃদ্ধির নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য, সচিত্র পরিচয়পত্র থাকলেই ঋণ, শোধ দিতে না পারলে অপমান

লালবাগে আত্মহত্যা বৃদ্ধির নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য, সচিত্র পরিচয়পত্র থাকলেই ঋণ, শোধ দিতে না পারলে অপমান
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
আনন্দ সাহা, লালবাগ: আর্থিক সঙ্গতি বা পরিশোধের সামর্থ্য না দেখেই ঋণ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাতপাঁচ না ভেবেই অনেকে নিয়েও নিচ্ছেন। অতঃপর, কিস্তি পরিশোধের জন্য দেওয়া হচ্ছে চাপ। এভাবেই ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। কেউ বসতভিটে বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপন করছেন। গত বুধবার লালগোলার বালুটুঙির ভাটুপাড়ার বছর পঁয়তাল্লিশের সুলোচনা সিংহ কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেন। ওই মহিলার আত্মহত্যার ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে। জানা গিয়েছে, বালুটুঙির ভাটুপাড়ার বাসিন্দা সুলোচনা সিংহ মেয়ের বিয়ের জন্য মাস ছয়েক আগে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক থেকে লক্ষাধিক টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। বুধবার ঋণের কিস্তি ছিল। কিস্তি দিতে না যাওয়ায় ব্যাঙ্কের কর্মীরা বাড়িতে এসে প্রতিবেশীদের সামনেই অপমানজনক বেশ কিছু কথা শুনিয়ে যান। তারপরেই ওই মহিলা ঘরে রাখা কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেন। এবছরের জানুয়ারি মাসে নবগ্রাম থানার অমৃতকুন্ড গ্রামে এক প্রৌঢ়া  ঋণের কিস্তি শোধের অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। 
Advertisement
শুধু লালগোলা ও নবগ্রামেই নয়, জেলা জুড়ে আকছার এরকম ঘটনা ঘটে চলেছে। বেশ কয়েক মাস আগে রানিতলা থানার একাধিক গ্রামে লোনের কিস্তির জন্য বাড়িতে গিয়ে রীতিমতো হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ঋণপ্রদানকারী সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় থানার পুলিসকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়। 
শহরাঞ্চল থেকে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় রমরমা কারবার চালাচ্ছে ক্ষুদ্র ঋণপ্রদানকারী সংস্থাগুলি। ঋণ শোধের সামর্থ্য দেখার বালাই নেই। আধার বা ভোটার কার্ড থাকলেই লোন পেতে অসুবিধা হচ্ছে না। লোন প্রদানের এই সরলীকরণ পদ্ধতি বা ব্যবস্থা গরিব, দুঃস্থ পরিবারগুলিকে আকৃষ্ট করছে। কোনও কিছু না ভেবেই তারা লোন নিয়ে নিচ্ছে। কেউ কেউ আবার একাধিক সংস্থা থেকেও লোন নিচ্ছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিচ্ছে কিস্তি শোধের সময়। ওই ক্ষুদ্র ঋণপ্রদানকারী সংস্থাগুলি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কিস্তি আদায় করে থাকে। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে এলাকার কোনও এক উপভোক্তার বাড়িতে ঘাঁটি গাড়েন সংস্থার কর্মীরা। 
নিয়ম অনুযায়ী ওই এলাকার অন্যান্য উপভোক্তারা ওই বাড়িতে গিয়ে কিস্তি জমা দেন। কোনও উপভোক্তা অনুপস্থিত থাকলে কিস্তি আদায়কারী ওই কর্মী তার বাড়িতে হানা দেন। লালগোলার বাসিন্দা পেশায় স্কুল শিক্ষক রেজাউল শেখ বলেন, যাকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে তার রোজগার বা লোন শোধের সামর্থ্য দেখা হয় না। শুধুমাত্র একটি সচিত্র প্রমাণপত্র নিয়েই লোন দেওয়া হয়। এই কারণেই গরিব মানুষগুলি বিভিন্ন প্রয়োজনের তাগিদে একপ্রকার মরিয়া হয়ে লোনের ফাঁদে পা দেন। লোন প্রদানকারী সংস্থাকে গ্রহীতার সামর্থ্য দেখা উচিত। 
একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মী সৌমিত্র পাল বলেন, ব্যাঙ্ক থেকে লোনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আয় ও আয়ের প্রামাণ্য নথি দেখা হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণপ্রদানকারী সংস্থার ক্ষেত্রে সামর্থ্য দেখা হয় না। ফলে সহজে ঋণ পেতে গরিব, দুঃস্থ মানুষজন নিজেদের অজান্তে ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ