সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: নতুন বছরের প্রথম দিন এলে বিষ্ণুপুরের মানুষের লালবাঁধের কথা মনে পড়বেই। তার কারণ গত ১৩ বছর ধরে এই দিনটাই লালবাঁধের কনকনে ঠান্ডা জলে সালের সমসংখ্যক ডুব দেন সদানন্দ দত্ত। কনকনে ঠান্ডায় যখন সাধারণ মানুষ স্নান করতেই ইতস্তত করে। সেখানে শহরের বাহাদুরগঞ্জের বাসিন্দা সদানন্দ বাঁধের জলে সালের সঙ্গে অঙ্ক মিলিয়ে একটানা ডুব দেন। তাঁর এই অভিনব বর্ষবরণ দেখতে হাজারো মানুষ বাঁধের পাড়ে ভিড় জমান। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বুধবারও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে তিনি ২০২৫টি ডুব দেন।
Advertisement
বিষ্ণুপুরের একটি সুইমিংপুলে সাঁতারের প্রশিক্ষণ দেন সদানন্দবাবু। প্রতিবার নতুন বছরের প্রথম দিনে লালবাঁধে ডুব দিয়ে নিজের রেকর্ড তিনি নিজেই ভাঙেন। শীতের সকালে একটানা জলে এত সংখ্যক ডুব দিয়ে প্রতিবছরই বিষ্ণুপুরের মানুষকে অবাক করেন। তাই শহরবাসীর কাছে তিনি ‘ডুবুরি সদানন্দ’ নামে পরিচিত হয়ে গিয়েছেন। সদানন্দবাবু বলেন, নতুন বছরের প্রথম দিনটাকে সবাই নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করে। আমি একটু অন্যরকমভাবে তা পালন করি। গত ১৩বছর ধরে প্রতি ১জানুয়ারি লালবাঁধের জলে সালের সমান সংখ্যক ডুব দিই। এই সময় বাঁধের জল প্রচণ্ড ঠান্ডা। কিন্তু, তা বর্ষবরণের অভিনব ইচ্ছাকে হার মানাতে পারেনি। আমাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বাঁধের পাড়ে বহু মানুষ জড়ো হন। তাতে আরও উৎসাহ পাই। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটানা এতগুলি ডুব দেওয়া খুবই কষ্টের। বিশেষ করে এই কনকনে ঠান্ডায় যেখানে শরীর থেকে গরম পোশাক খুলতে ইচ্ছে করছে না। সেখানে জলের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে থাকা সত্যিই আশ্চর্যের। কলকাতা থেকে বিষ্ণুপুরে আসা পর্যটক বাপন সমাদ্দার বলেন, মন্দির ঘোরার পর এদিন ঐতিহাসিক লালবাঁধ দেখতে এসে দেখি পাড়ে বহু মানুষের ভিড়। সেখানে গিয়ে দেখলাম, এক যুবক জলের মধ্যে টানা ডুব দিয়ে যাচ্ছেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে আমরা সপরিবারে তা দেখলাম। শুনলাম উনি নাকি এভাবেই প্রতি বছর একটানা ডুব দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানান। নাচগান, চড়ুইভাতি, বেড়াতে যাওয়া, হই হুল্লোড় ইত্যাদি নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করতে দেখেছি। বিষ্ণুপুরে এসে অভিনব বর্ষবরণ দেখলাম।



