Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লীলায় মত্ত নেতারাই সংগঠনের বড় দায়িত্বে

লীলায় মত্ত নেতারাই সংগঠনের বড় দায়িত্বে
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘লীলায় মত্ত নেতারাই এখন দলের সম্পদ। তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন বিজেপির এক আদি নেতা। কেশব কোনার নামে ওই আদি নেতা লিখেছেন, চোরা কারবারি, হোটেলে ফূর্তি করা এক যুব মোর্চার নেতাকে পদে বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেজিস্টার্ড চরিত্রহীন আরেক নেতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বিষয়টি অবগত করা হবে। 
Advertisement
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪পরগনায় পার্টি অফিস থেকে গোপনাঙ্গ কাটা এক নেতার মৃতদেহ উদ্ধারের পর দলের অস্বস্তি বেড়েছে। তবে ওই ঘটনার আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির আদি নেতা বলে দাবি করা কয়েকজন লীলার তত্ত্ব ফাঁস করেছেন। তাঁদের দাবি, শীর্ষ নেতৃত্ব এই সমস্ত বিষয় গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে দক্ষিণ ২৪পরগনার মতো অনেক ঘটনাই সামনে আসবে। 
যদিও বিজেপি নেতৃত্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ওই নেতার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি কোনওদিনই গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন না। শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই তাঁর অস্তিত্ব বোঝা যায়। যদিও কেশববাবু বলেন, দলের দুর্দিনে আমরাই ঝাণ্ডা ধরেছিলাম। অন্য দল থেকে কয়েকজন এসে পার্টি চালাচ্ছেন। তাঁদের জন্যই সংগঠনে ভরাডুবি হচ্ছে। নেতারা কতটা লীলায় মত্ত তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া অডিও এবং ভিডিওগুলি দেখলেই বোঝা যায়। দলের আর এক পুরনো নেতা নরেশ কোনার বলেন, বিজেপি একটা শৃঙ্খলাপরায়ণ দল। কিন্তু কয়েকজন নেতার নামে আপত্তিকর অনেক কিছুই শোনা যায়। এসব সামনে না এলেই ভালো হতো। জেলা নেতৃত্বের উচিত এসব কিছু কড়া হাতে মোকাবিলা করা। 
বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, শুধু অভিযোগ করলে হবে না। প্রমাণ করে দেখাতে হবে। এসব করে দলের বদনাম করা যায় না। বিজেপির আর এক নেতা বলেন, দলে গুরুত্ব না পেয়ে অবসাদে কেউ কেউ এসব মিথ্যাচার করছেন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিজেপির একাংশের দাবি, জেলায় বহুদিন ধরেই গোষ্ঠীকোন্দল চলছে। এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর উপর বিষোদ্গার করেই চলছে। সেই কারণে কোনও কর্মসূচির সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে না। প্রত্যশামতো সদস্যপদ সংগ্রহ করতেও নেতৃত্ব ব্যর্থ হচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্ব টার্গেট বেঁধে দিয়েছে। এখনও জেলা তার ধারেকাছে পৌঁছতে পারেনি। গোষ্ঠী কোন্দলের কারণে অনেকেই দল ছেড়েছেন। কেউ কেউ অন্য দলে যোগদান না করলেও নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছেন। দেড় বছর পর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে কোন্দল মেটাতে না পারলে লড়াই আরও কঠিন হয়ে যাবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
সম্পর্কিত সংবাদ