Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লক্ষ্য তহবিল বৃদ্ধি, বর্জ্য সংগ্রহে কর সংগ্রহ বাঁকুড়া পুরসভার 

লক্ষ্য তহবিল বৃদ্ধি, বর্জ্য সংগ্রহে কর সংগ্রহ বাঁকুড়া পুরসভার 
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া পুরসভার ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’। টাকার অভাবে ফেব্রুয়ারি মাসে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন দিতে পারেনি তারা। এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব তহবিল পুষ্ট করতে বাসিন্দাদের থেকে জঞ্জাল কর আদায় করবে পুরসভা। বাড়ি পিছু দৈনিক এক টাকা করে নেওয়া হবে। সম্প্রতি পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
Advertisement
গৃহস্থালির পাশাপাশি হোটেল, দোকানের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি থেকেও জঞ্জাল কর আদায়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে দৈনিক ১০ টাকা হারে কর আদায় করা হবে। বর্তমানে শহরে প্রায় ৩২ হাজার বাড়ি ও কয়েকশো দোকানপাট রয়েছে। ফলে ওই খাতে প্রতি মাসে পুরসভার তহবিলে ১০ লক্ষাধিক টাকা জমা পড়বে। 
তবে শহরবাসী বিষয়টিকে কীভাবে নেবে সে ব্যাপারে ইতিমধ্যে কাউন্সিলারদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে পুরসভার ক্ষমতায় তৃণমূল। গত লোকসভা নির্বাচনে শাসকদলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বাঁকুড়াবাসী। এক বছরের মাথায় বিধানসভা নির্বাচন। ফলে বিষয়টি ভোটে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড কর আদায় নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছে। 
বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেন মজুমদার বলেন, কেন্দ্রের পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত থাকে। এমনকী কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশনের ক্ষেত্রেও পরিষেবা কর আদায়ের জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওইসব শর্তের কারণেই আমরা পরিষেবা কর আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জঞ্জাল সাফা‌ইয়ের বিনিময়ে নাগরিকদের কাছ থেকে কর আদায়ের ব্যাপারে পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাসে ৩০ টাকা করে পরিবার পিছু নেওয়া হবে। গৃহস্থের উপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে তারজন্য দৈনিক মাত্র এক টাকা করে কর ধার্য্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শহরের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির থেকে আরও বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। বাজার, হাটে আমরা রাতে জঞ্জাল সাফাই করে থাকি। 
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া মাঝারি শহর হিসেবে গণ্য হয়। গোপীনাথপুর, রাজগ্রাম, কালীতলা, ইদগাহ মহল্লা, কেঠারডাঙার মতো কয়েকটি পুরনো এলাকা ছাড়া শহরের জনঘনত্বও খুব একটা বেশি নয়। ফলে অন্যান্য শহরের মতো বাঁকুড়া পুরসভাকে প্রতিদিন টন টন জঞ্জাল সাফ করতে হয় না। তা সত্ত্বেও জঞ্জাল সাফাই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শহরবাসীর একাংশের অভিযোগ রয়েছে। যদিও আগের তুলনায় শহর অনেক পরিষ্কার থাকে বলে পুর কর্তৃপক্ষের দাবি। সরাসরি কর আদায় করা হলে বাসিন্দাদের সঙ্গে পুরসভার টানাপোড়েন অন্য মাত্রা পাবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। কর দেওয়ার পরেও পরিষেবা আশানুরূপ না হলে ক্ষোভ বাড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ