Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় হস্তশিল্প সামগ্রী গড়ে স্বনির্ভর হচ্ছেন ঝাড়গ্রামের মহিলারা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় হস্তশিল্প সামগ্রী গড়ে স্বনির্ভর হচ্ছেন ঝাড়গ্রামের মহিলারা
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের দিশা দেখাচ্ছে। বাবুই ঘাস থেকে অন্যান্য কাঁচামাল কিনতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাই কাজে লাগাচ্ছেন তাঁরা।পর্যটকরা বেড়াতে এসে সেইসব হস্তশিল্পসামগ্রী কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বনজ সম্পদের শৌখিন সামগ্ৰী জেলার অর্থনৈতিক বিকাশে বড় ভূমিকা নিচ্ছে। ঝাড়গ্ৰামের বেলপাহাড়ী এলাকার মহিলারা হস্তশিল্প সামগ্ৰী তৈরি করে স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন।
Advertisement
ঝাড়গ্ৰামের বেলপাহাড়ী পিছিয়েপড়া এলাকা বলেই পরিচিত ছিল। দারিদ্র ও অনাহার নিয়ে এলাকার মানুষ বেঁচে থাকতেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন সেই চিত্রের বদল ঘটিয়েছে। গত একদশক ধরে জেলাজুড়ে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। একাধিক সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা জেলারসকলস্তরের মানুষ পাচ্ছেন। মানুষের জীবনযাপনের মানোন্নয়ন ঘটেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্প মহিলাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জমানো টাকা ঘরের কাজে যেমন খরচ করছেন, তেমন ছোট কারবারেও পুঁজি হিসেবেও ব্যবহার করছেন।জেলা প্রশাসনও মহিলাদের হস্তশিল্পসহ নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়গ্ৰামে এসে  জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে মহিলাদের স্বনির্ভর হওয়ার বার্তা দিয়ে গিয়েছেন। একইসঙ্গে জেলায় হস্তশিল্পের প্রসারের জন্য পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছেন। 
মহিলারা স্বাধীন কর্মসংস্থানের দিকে ঝুঁকছেন।ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, মহিলাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার শহর ও প্রত্যন্ত এলাকার মহিলারা ট্রেনিং নিয়ে স্বনির্ভর হচ্ছেন। হস্তশিল্প মহিলাদের কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিচ্ছে। বিনপুর-২ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ সিং সর্দার বলেন,ব্লকের  বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে মহিলাদের বাবুই ঘাস ব্যবহার করে জিনিস তৈরির ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। শতাধিক মহিলা এই ট্রেনিং নেন। বেলপাহাড়ী ব্লকের শিমূলপাল, ধোবাকাচা, বালিচুয়া এলাকার মহিলারা বাবুই ঘাসের হস্তশিল্প সামগ্রী বানাচ্ছেন। পর্যটকরা এখানে বেড়াতে এসে সেইসব জিনিস কিনছেন। মহিলারা যেমন স্বনির্ভর হচ্ছেন তেমন এলাকার আর্থিক বিকাশে ঘটছে। শিমূলপাল এলাকার বাসিন্দা অঞ্জু ঘোষ বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। বাবুই ঘাস দিয়ে হস্তশিল্প তৈরি করতে বেশি পুঁজির দরকার হয়না। এই এলাকার মেয়েরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জমানো টাকা দিয়েই এই ব্যাবসা করেছেন। সংসারে বাড়তি রোজগার হচ্ছে। মাধবী মাহাত বলেন,বাবুই ঘাসের ব্যাগ ৩০০ থেকে ৫৫০টাকার মধ্যে বিক্রি করি। এছাড়া বাটি ও থালা সহ ঘর সাজানোর জিনিসের দাম ১০০থেকে ২৫০ টাকা। পাথরের থালা, বাটি, গ্লাস বিক্রি হচ্ছে।ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্ক সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে আমাদের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে। এলাকার বহু মহিলাস্বাধীনভাবে হস্তশিল্প সামগ্ৰী তৈরির কাজে আগ্ৰহ দেখাচ্ছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ