Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বদলে দিয়েছে জীবন, মমতাকে গ্রামে আমন্ত্রণ মহিলাদের 

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বদলে দিয়েছে জীবন, মমতাকে গ্রামে আমন্ত্রণ মহিলাদের 
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: জঙ্গলে আর শালপাতা সংগ্ৰহ করতে যেতে হয়না। ঘরে হাড়ভাঙা খাটুনিও কমেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার,বিধবা ভাতাঅপরের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়েছে। বাড়ির কাজ, সন্তানদের দেখাশোনার বাড়তি সময় মিলছে। বৃহস্পতিবার গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের কেন্দুগাড়ি এলাকার মহিলারা বদলে যাওয়া জীবনের কথা শোনালেন জনসংযোগে আসা তৃণমূল নেতাদের। উচ্ছ্বাসভরে আর্জি জানালেন মমতা দাইকে (দিদি) গ্ৰামে নিয়ে আসার। 
Advertisement
ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার,কন্যাশ্রী,রূপশ্রী,বিধবা ভাতার মতো প্রকল্প নারীদের ক্ষমতায়নে দিশা দেখাচ্ছে।প্রকল্পের সুবিধা আদিবাসী গ্ৰামের মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছে। আদিবাসীঅধ্যুষিত এলাকার নারী পুরুষ সে কথা বলতে ভুলছেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত জানুয়ারি মাসে দলের নেতা-কর্মীদের এলাকায় এলাকায় গিয়ে মানুষের কথা শোনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।সঙ্কোচের বেড়াজাল পেরিয়ে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার মানুষ এবারসহজে নিজেদের কথা বলছেন।  গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের সভাপতি হেমন্ত ঘোষ, পঞ্চায়েত সমিতির নারী ও শিশু কর্মাধ্যক্ষ মলি মুর্মু, পঞ্চায়েত সদস্য দুলারি মুর্মু, অঞ্চল সভাপতি লঘু হাঁসদা ও ব্লক কমিটির সদস্য ধীরেনমুর্মুরা এদিন সকালে  রেহেড়াঘুটু গ্রামে পৌঁছে যান।গ্ৰামবাসীদের নানা দাবি দাওয়ার কথা শোনেন। গ্ৰামের মহিলাদের আর্জি সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। স্বাধীনতার পর গ্ৰামের মানুষপাঁচবছর আগে প্রথমবার পাকা রাস্তা পেয়েছেন। পরিস্রুত পানীয় জল, সেচের কাজের জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রয়েছে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নানা পরিষেবা দারিদ্র্যপীড়িত এই এলাকার মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছে।গ্ৰামের বাসিন্দা স্বর্ণলতা মুর্মু এদিন বলেন, স্বামী স্ত্রী মিলে আগে খুবই কষ্টকরে সংসার চালাতে  হতো। জঙ্গলে শালপাতা সংগ্ৰহ করে বাজারে বিক্রি করে কিছু আয় হতো। তারজেরে ছেলেমেয়েদের দিকে নজর দিতে পারতাম না। অন্য কাজও করতে হতো। হাড়ভাঙা খাটুনি থেকে রেহাই ছিল না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে মাসে মাসে টাকা পাচ্ছি। দুশ্চিন্তার ভার কমিয়ে দিয়েছেকন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। মমতা দাইয়ের জন্য আমাদের জীবন বদলে গিয়েছে।গ্ৰামের মেয়েদের খুব ইচ্ছে সামনা সামনি ওঁকে দেখার।গ্ৰামের তরুণ দেবপ্রকাশ মুর্মু বলেন, স্বাধীনতার পর এই সরকারের সময় গ্ৰামে প্রথম পাকা রাস্তা হয়েছে।নানা প্রকল্পের সুবিধা এখানকার মানুষ পাচ্ছেন। উপেক্ষা ও বঞ্চনা নিয়ে এই এলাকার মানুষের জীবন কেটেছে।তবে এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। ব্লকের নেতারা এসে আমাদের সমস্যার খোঁজখবর করেছেন। সেচ, স্থানীয় স্কুলের পঠনপাঠনের সমস্যার কথা জানিয়েছি। পঞ্চায়েত সদস্য দুলারি মুর্মু বলেন, এই এলাকার আদিবাসী মহিলারা শালপাতা বিক্রি করে,  দিনমজুরি করে সামান্য রোজগার করতেন। সেই কাজে সারদিন চলে যেত। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আদিবাসী মহিলাদের কিছুটা হলেও আর্থিক নিরাপত্তা দিচ্ছে। গ্ৰামের মহিলাদের কাছেস্বাভাবিকভাবেই মমতা দাই  জনপ্রিয়  হয়ে উঠেছেন। ব্লক সভাপতি হেমন্ত ঘোষ বলেন, দলনেত্রীর নির্দেশে এদিন কেন্দুগাড়িএলাকায় গিয়েছিলাম। স্থানীয় মানুষজন সমস্যা ও দাবিদাওয়ার কথা বলে থেমে থাকেননি।যেসব সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন এবং পাচ্ছেন, সেগুলির কথাও জানিয়েছেন। গ্ৰামের মহিলারা যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে উচ্ছ্বাস ও আবেগ প্রকাশ করেছেন, তা আমাদের উদ্বেল করেছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ