Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আবাস প্রকল্প থেকে বঞ্চিত, ভিক্ষা করে ভাঙা ঘরে দিন কাটে বৃদ্ধ দম্পতির

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আবাস প্রকল্প থেকে বঞ্চিত, ভিক্ষা করে ভাঙা ঘরে দিন কাটে বৃদ্ধ দম্পতির
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: ২০০০ সালের বন্যার আগে শেষবারের মতো ভালো বাড়িতে বাস করেছিলেন ওঁরা। কিন্তু সেবারের বন্যায় বাড়ি কার্যত উড়ে যাওয়ার পর আর ভালো বাড়ি তাঁদের কপালে জোটেনি। এখন দু’টি ভাঙা মাটির দেওয়ালের উপর টিন ও ত্রিপল চাপা দেওয়া ছাউনিতে দিন কাটাতে হয় খড়গ্রাম ব্লকের ভালকুন্দি গ্রামের প্রবীণ দম্পতিকে। জীবনের শেষলগ্নে পৌঁছে রাজ্য সরকারের আবাস প্রকল্পের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।
Advertisement
ওই গ্রামের তেনু শেখ ও আনজেরা বিবি স্বামী স্ত্রী। উভয়ে ৬০ পার করেছেন। থাকেন গ্রামের শেষপ্রান্তে একটি ছাউনি দেওয়া ঘরে। ছাউনি বলতে দু’টি ভাঙাচোরা মাটির দেওয়ালের উপর ছেঁড়া ত্রিপল ও টিন চাপানো ঘর। অথচ ২০০০ সালের বন্যার আগে ওই দম্পতির চার কামড়ার শক্তপোক্ত মাটির বাড়ি ও ভরা সংসার ছিল।
যদিও এখন আর বাড়িও নেই, ভরা সংসারও নেই। আবার চার ছেলে থাকলেও তাঁদেরও কোন খোঁজ খবর আর তাঁদের কাছে নেই। প্রতিবেশীরা বলেন, ছেলেরা একে একে সব সরে গিয়েছে। বৃদ্ধ বাবা মা বাড়িতে পড়ে রয়েছেন। তেনু শেখ হাঁপানি রোগী। কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন। আবার আনজেরা বিবিও শারীরিক প্রতিবন্ধী। তবে প্রতিবেশীরাই জোগান দেন প্রতিদিনের খাবার দাবার। প্রতিবেশী আনসার শেখ বলেন, কার্যত ভিক্ষাবৃত্তি করেই ওঁদের সংসার চলে। খাবারের দায়িত্ব আমরা নিলেও বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার ক্ষমতা এখানে কারও নেই।
তাই প্রায় দুই যুগ ধরেই ভাঙা বাড়িতে বাস করছেন ওই দম্পতি। এমনকী পাকা বাড়ির আবেদন নিয়ে বহুবার পঞ্চায়েতে গিয়েছেন। কিন্তু একবারের জন্যও আবাস যোজনার তালিকায় নাম ওঠেনি। তেনু শেখ বলেন, ২০ বছর ধরে পঞ্চায়েতে যাচ্ছি। গ্রামের মেম্বারদের বলেছি। এখন আর রাগে কোথাও যাই না। তবে শুনেছি রাজ্য সরকার বাড়ি বানিয়ে দিচ্ছে। এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছি আমরা। তবে এখনও বিডিও অফিসের লোকেরা আমাদের বাড়িতে আসেননি।
আনজেরা বিবি বলেন, শুধু বাড়ি নয়, কোনও সরকারি ভাতাও পাই না আমরা। বিধবা ভাতা থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কিছুই মেলে না। অথচ বারবার কাগজপত্র আমাদের মেম্বার নিয়ে গিয়েছেন। এবিষয়ে স্থানীয় জয়পুর পঞ্চায়েত প্রধান অর্পিতা বিশ্বাস বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে ওই পরিবারটি রাজ্য সরকারের প্রকল্পের সুবিধাগুলি পেতে পারেন। এছাড়াও রাজ্য সরকারের আবাস প্রকল্পে যাতে পরিবার ঘর পেতে পারেন, তার ব্যবস্থাও করা হবে। এনিয়ে খড়গ্রাম বিডিওর কাছে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সুপারিশও করা হবে। খড়গ্রাম বিডিও মিলনী দাসকে মোবাইলে কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
সম্পর্কিত সংবাদ