সংবাদদাতা, মানিকচক: শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে লক্ষাধিক ভক্তের ঢল মানিকচকে। মালদহ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আসা পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল প্রায় ৪৫০ পুলিস। তদারকি করেছেন জেলা পুলিস সহ ব্লক আধিকারিকরা। স্পিডবোটে নদীতে নজরদারি চালাচ্ছিল সিভিল ডিফেন্স। তবে প্রশাসনিক সতর্কবার্তা উড়িয়ে মানিকচক ঘাটের ভাঙা অংশে স্নান করলেন পুণ্যার্থীরা। পুলিসের চোখ এড়িয়ে চলল নৌকা বিহারও। শিবরাত্রির একদিন আগে থেকেই মানিকচকে গঙ্গার ঘাটে ঢল নামতে শুরু হয়েছিল পুণ্যার্থীদের। পূর্ণকুম্ভের রেশ আছড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করেছিল প্রশাসন। বাস্তবে সেটাই দেখা গিয়েছে। সকাল থেকেই ভক্তদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। দিন গড়ানোর সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে। সামাল দিতে তৎপর ভূমিকায় দেখা যায় প্রশাসনকে। যানজট এড়াতে মানিকচকের রাস্তায় সমস্ত বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল এদিন। রাজ্য সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পুলিস ব্যারিকেড করে দেয়। বাকিপুর এবং মানিকচক ব্লক অফিসের সামনে পার্কিং করা হয়েছিল। রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন ছিলেন প্রায় চার শতাধিক পুলিস কর্মী। ছিল মেডিক্যাল ক্যাম্পও। মানিকচক ঘাটে নৌকার সাহায্যে নজরদারি করতে দেখা যায় পুলিস ও প্রশাসনকে। দুর্ঘটনা এড়াতে সিভিল ডিফেন্স ও কুইক রেসপন্স টিমের তিনটি স্পিডবোট নজরদারি চালিয়েছে। মানিকচক ঘাটে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় সতর্কতামূলক পোস্টার টাঙানো হয়েছিল। পাশাপাশি বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও বহু পুণ্যার্থী ঝুঁকি নিয়ে সেখানে স্নান করেন। নির্দেশ উড়িয়ে স্থানীয় নৌকা নিয়ে নদীর মাঝে চরে গিয়ে স্নানও করেন অনেকে। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই তাঁদের ফেরত এনে নৌকা চালকদের সতর্ক করা হয়।
Advertisement
চাঁচলের গৃহবধূ মধুমিতা দাস বলেন, পূর্ণকুম্ভে না যেতে পারায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানিকচকের এই গঙ্গার ঘাটে এসেছি। প্রতি বছরই এখানে আসি। সমস্ত ব্যবস্থা ভালো থাকলেও এবছর ঘাটে স্নানের জায়গার অবস্থা খারাপ। আমাদের নদীতে নামতে সমস্যা হচ্ছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে মানিকচক ব্লক ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট অফিসার পলাশ দাস বলেন, শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে মানিকচক ঘাটে। আমরা নিজেরা থেকে গঙ্গাবক্ষে নজরদারি চালাচ্ছি। দুপুর পর্যন্তই প্রায় দুই লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়েছিল।



