সংবাদদাতা, কাটোয়া: দশ বছর ধরে পুরসভার বকেয়া কর মেটাচ্ছে না রেল। ৬ লক্ষ টাকা কর বকেয়া রয়েছে রেলের। ইতিমধ্যে তিনবার চিঠি দিয়ে বকেয়া কর মেটাতে অনুরোধ করেছে পুরসভা। তবুও হেলদোল নেই রেলের। এমনকী বিএসএনএলেরও ৪ লক্ষ টাকা কর বকেয়া রয়েছে। দুই কেন্দ্রীয় সংস্থা সহ রাজ্য সরকারের অফিস ভবনগুলির বকেয়া কর মেটানোর জন্য রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হচ্ছে গুসকরা পুরসভা।
Advertisement
গুসকরা পুরসভা এলাকায় ১৬টি ওয়ার্ড রয়েছে। এরমধ্যে রেলের বেশ কয়েকটি ভবন রয়েছে পুরসভা এলাকায়। তাছাড়া রাজ্য সরকারের বেশ কয়েকটি ভবন রয়েছে। খাদ্যদপ্তর, জেলা পরিষদের ভবন রয়েছে। সব নিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা কর বকেয়া রয়েছে গুসকরা পুরসভার। দশ বছর ধরে কেউ মেটাচ্ছে না। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলের ৬ লক্ষ টাকা, বিএসএনএলের ৪ লক্ষ টাকা, স্বাস্থ্যদপ্তরের ৯ লক্ষ টাকা, জেলা পরিষদের ৭ লক্ষ টাকা, সেচদপ্তরের ১ লক্ষ টাকা কর বকেয়া রয়েছে। এছাড়া গুসকরা শহরের কয়েকটি বন্ধ হয়ে যাওয়া চালকলের কর বকেয়া রয়েছে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা। দু’টি বন্ধ সিনেমা হলের ১৬ লক্ষ টাকা কর বকেয়া রয়েছে। এছাড়া সমবায় সমিতি পরিচালিত হিমঘরের কর বকেয়া রয়েছে ১১ লক্ষ টাকা।পুরসভার দাবি, গুসকরা শহরে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসগুলি দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া কর না মেটানোয় বিপাকে পড়েছে পুরসভা। তাদের দাবি, পুরসভার নিজস্ব তহবিলের অবস্থা ভালো নয়। নিজস্ব তহবিল থেকে অস্থায়ী কর্মীদের বেতন মেটাতে হয়। এরকম কর বকেয়া থাকলে তা বেতন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুরসভাকে। দীর্ঘদিন ধরেই বারবার বলা হলেও কেউ কর মেটাচ্ছেন না। কুশলবাবু আরও বলেন, শহর ছোট। পুরসভার নিজস্ব আয়ের সোর্স খুবই কম। তাই এরকম কর বকেয়া থাকলে শহরের উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যাচ্ছে। রাজ্য সরকার বারবার পুরসভাগুলিকে নিজস্ব তহবিল বাড়াতে বলেছে। কিন্তু আমরা সেটা কীভাবে বাড়াব তা ভেবে পাচ্ছি না। পুরসভার চেয়ারম্যান কুশল মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা তিনবার রেলকে চিঠি দিয়ে কর মেটানোর জন্য আবেদন করেছি। তা সত্বেও রেলের পক্ষ থেকে সাড়া মেলেনি। তাছাড়া রাজ্য সরকারের বেশ কয়েকটি অফিস ভবন রয়েছে গুসকরা পুরসভা এলাকায়। তাদের ভবনগুলির কর দীর্ঘদিন ধরেই বকেয়া রয়েছে। সেগুলি মেটানোর কোনও উদ্যোগই দেখছি না। তাই এবার রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানাব। টাকাগুলি পেলে পুরসভা এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করা যাবে।



