Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লোকপুরে ডায়ারিয়ায় মৃত্যু দু’জনের, আতঙ্কে গ্রামবাসী, স্বাস্থ্য শিবির

লোকপুরে ডায়ারিয়ায় মৃত্যু দু’জনের, আতঙ্কে গ্রামবাসী, স্বাস্থ্য শিবির
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: এক সপ্তাহের মধ্যে খয়রাশোল ব্লকের লোকপুরে ডায়ারিয়াতে পরপর দু’জনের মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকজন। লোকপুরের থান্ডার পাড়াতে বেশ কয়েকদিন ধরে ব্যাপক ডায়ারিয়ার প্রকোপে কাবু অন্তত ১৫ জন। স্থানীয় একটি পুকুরের জল ব্যবহার করার কারণেই এই ডায়ারিয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। বেগতিক বুঝে স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা গ্রামে গিয়ে ক্যাম্প করে চিকিৎসা শুরু করেছেন। বাড়ি বাড়ি অসুস্থদের ওষুধপত্র, স্যালাইন দেওয়া চলছে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, গত ৮ নভেম্বর গ্রামের অঞ্জনা বাউড়ি (২৮) বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তিনিও পেটের সমস্যায় ভুগছিলেন। বুধবার সিউড়ি সদর হাসপাতালে সরস্বতী বাউড়ি (৪৫) নামে আরেক মহিলা সিউড়ি সদর হাসপাতালে মারা গেলেন। তিনি বমি, পায়খানা ও খিঁচুনি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীনই তাঁর মৃত্যু হল। এদিনই সকালে গ্রামের আরও বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এর মধ্যে ৩ জনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁদের তড়িঘড়ি সিউড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আরও ৫ জনের স্থানীয় নাকড়াকোন্দা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা চলছে। গ্রামে সব মিলিয়ে এখন অসুস্থ কমবেশি অন্তত ১৫ জন। সকলেরই একই রকম অসুবিধা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে এদিন সকালে গ্রামে হাজির হন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। লোকপুর থানার ওসিও হাজির ছিলেন। এলাকায় গিয়ে মানুষজনের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামবাসীদের চিকিৎসা শুরু করেছেন। স্যালাইন দেওয়া থেকে অন্যান্য ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। মনে করা হচ্ছে, গ্রামের ওই পুকুরের জল ব্যবহার করার জন্যই সকলের এই শারীরিক অবস্থা! সেই কারণে ওই পুকুরটির জল যাতে আর কেউ ব্যবহার না করে তা প্রচার করা হচ্ছে। স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফ থেকে জলের ট্যাঙ্কের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোটা গ্রামেই এখন কান্নার রোল। গ্রামের বাসিন্দা রেনুবলা বাউড়ি বলেন, বমি, পায়খানা শুরু হয়েছিল আমার জা অঞ্জনার। ও বর্ধমানে মারা গেল। তখন বিষয়টি নিয়ে অত কেউ ভাবিনি। পরে যখন আমার এক সম্পর্কে পিসিও মারা গেল তখন সবাইকে জানানো হল। সকলেই বলছে পুকুরের জলের থেকেই এটা হয়েছে। আগেও দেখেছি পুকুরের জলে স্নান করলেই চুলকানি হতো। কিন্তু আমাদের এখানে স্নান করার জল তো নেই। পুকুরই ভরসা। খাবার জন্য টিউবওয়েলের জল ব্যবহার করি। এখন সবাই ওষুধ খাচ্ছি। অন্যদিকে, গ্রামে উপস্থিত চিকিৎসকদের বলতে শোনা যায়, এটা শুধু ডায়ারিয়ার প্রকোপ না অন্য কিছু তা পরীক্ষার বিষয়। তাই বাচ্চা, বয়স্ক সকলকেই সতর্ক হতে হবে। 
এতে কিছুটা হলেও মনে বল পান বাসিন্দারা। খয়রাশোলের বিএমওএইচ সব্যস্যাচী রায় বলেন, আমরা সকালে খবর পেয়েই এখানে হাজির হয়েছিলাম। যা দেখলাম, গ্রামের ১২ জন মানুষ ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত। ৫ জনের অবস্থার একটু অবনতি হয়েছিল বলে সিউড়ি হাসপাতাল পাঠিয়েছি। আমরা সবাইকে বলছি, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা ২৪ ঘণ্টা সঙ্গে রয়েছি। গ্রামের পুকুরের জল থেকেই এটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাই আমরা নমুনা সংগ্রহ করেছি। হ্যালোজেন ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে সবসময়ে হাত ধুতে হবে। 
মানুষজন বিষয়টিকে চেপে রেখেছিল। দেরিতে হলেও আমরা খবর পেয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি নজর রাখছি। আশা করি সকলেই ভালো হয়ে উঠবেন।
সম্পর্কিত সংবাদ