নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উৎসবের মরশুমে রেকর্ড গড়ল হুগলির নতুন জগদ্ধাত্রী নগরী রিষড়াও। সাধারণত চন্দননগরের শোভাযাত্রা পর্ব না মিটলে রিষড়াতে ভিড়ের দাপট তেমনভাবে দেখা যায় না। এবার কিন্তু দশমীতেই তীব্র ভিড়ের দাপট দেখা গিয়েছে রিষড়ার অলিগলিতে। স্থানীয় এবং হুগলির অন্যান্য এলাকার ভিড় এদিন আছড়ে পড়ে রিষড়ার বিভিন্ন এলাকায়। আবার চন্দননগর থেকে বাড়ির পথে হাঁটা দিতে গিয়েও বহু মানুষ একবার রিষড়ার ঢুঁ দিয়ে গিয়েছেন। সবমিলিয়ে পুজোর দ্বিতীয় দিনেই জমাট ভিড় দেখা গিয়েছে পূর্ব থেকে পশ্চিম রিষড়ায়। ভিড় যেমন স্থলপথে জমাট বেধেছে তেমনই রেল ও ফেরিপথেও ছিল ভিড়ের প্রবল দাপট।
সন্ধ্যার মুখে ভিড়ে ঠাসা ছিল রিষড়ার নিউ বর্ণালীচক্রের মণ্ডপ। সেখানকার পুতুলঘরে এদিন ছিল জীবন্ত পুতুলের প্রদর্শনী। দীর্ঘসময় স্থানু হয়ে থাকা মডেল দেখতে ছোট থেকে বড়দের ভিড় দেখা গিয়েছে। সেখানেই এদিন ছিল পুতুলনাচের আসর। ঠাসা ভিড় দেখা গিয়েছে সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরেও। পুজো উদ্যোক্তা অসিতাভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমাদের বিভিন্ন শো ছিল বলেই ভিড় হয়েছে এমনটা নয়, এদিন রিষড়াতেই ভিড়ের দাপট ছিল। সাধারণত পুজোর দ্বিতীয় দিনের তুলনায় যা ভিড় আমরা অতীতে দেখেছি তার তুলনায় বেশি মানুষ রিষড়ায় এসেছেন। রিষড়ার কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সভাপতি তথা রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় মিশ্র বলেন, মানুষ বেশি আসবেনই। কারণ রিষড়ায় পুজোর সংখ্যা শুধু বেড়েছে তাই নয়, পুজোর আয়োজন, আলোকসজ্জার দাপট, থিমের বাহারও বেড়েছে। পুজোর দ্বিতীয় দিনেই জমাট ভিড় সেই জনপ্রিয়তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আয়োজন থেকে আড়ম্বর, সবেতেই চন্দননগরকে টেক্কা দেওয়ার আপ্রাণ প্রয়াস বহুদিন ধরেই রিষড়া করছে। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার সেই লড়াইয়ের ফলাফল কি হবে, সে অন্য প্রশ্ন। কিন্তু চন্দননগরে শুক্রবার যেখানে পুজো পর্ব প্রায় শেষ সেখানেই রিষড়ার পুজো পড়েছে দ্বিতীয় দিনে। ফলে চন্দননগরের শোভাযাত্রার প্রাক্কালে পুজোর আয়োজন ঘুরে দেখতে সন্ধ্যার পরই ভিড় জমছে রিষড়ায়। স্টেশন এলাকা থেকে ফেরিঘাট, শ্রীরামপুর থেকে রিষড়া অভিমুখী পথে ঠাসা ভিড় দেখা গিয়েছে। সিঙ্গুর থেকে রিষড়ায় এসেছিলেন নবীন দাস। মিলন সংঘের ‘টাকার গাছ’ দেখছিলেন। গোটা মণ্ডপই মুদ্রা থেকে কয়েন, টাকা থেকে মোহরের সমাবেশে তৈরি। মাটির দেবী প্রতিমাও বৃহৎ কয়েনের মাঝে স্থাপত্যের মতো অবয়ব নিয়ে হাজির। টাকা দিয়েই তৈরি হয়েছে টাকার মৌচাক। টাকার গাছেই তার অবস্থান। বিস্মিত নবীন বলেন, এমন থিমের বাহার হুগলিতে জগদ্ধাত্রী পুজোতেই দেখা যায়। দুর্গোৎসবের পর এই পুজোকে ঘিরেই বাড়তি বিনোদনের সুযোগ গেলে। সেটাই সন্ধ্যাতারার মতো সত্যি। আর সন্ধ্যেবেলাতেই ভিড় জমে। নবীন জগদ্ধাত্রী নগরীতে মাঝরাতেও দাপায় জনস্রোত।