নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘হাসপাতালে ডাক্তাররা আছেন কি না, রোগীদের পরিষেবা ঠিকঠাক চলছে কি না, বেডে বেডে কুকুর-বিড়াল ঘুরছে কি না—সবটাই দেখব আমরা। সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম বসছে স্বাস্থ্যভবনে। সেখান থেকে লাইভ মনিটরিং হবে।’ শনিবার সকালে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের দালালচক্র বা রেফার রোগ—কোনো কিছু চোখে পড়লেই আমাদের জানান। দুর্নীতি-গাফিলতিতে আমাদের নীতি একেবারে জিরো টলারেন্সের। মুমূর্ষু রোগীকে রেফার করার অভিযোগ ওঠায় ইতিমধ্যে আমরা মেডিকেল কলেজের এমএসভিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা রাজ্যের সমস্ত জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের পরিস্থিতির দিকে প্রতি মুহূর্তে নজর রাখতে স্বাস্থ্যভবনে কন্ট্রোল রুম করছি। সেজন্য পেশাদার লোকজন নেওয়া হচ্ছে।’
স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, এই ‘লাইভ মনিটরিং’-এর ফিড থাকবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও। তিনি যেকোনো সময় যেকোনো হাসপাতালের পরিস্থিতির দিকে নিজের মোবাইল থেকেই নজর রাখতে পারবেন। এদিন ১৪ বছরের কিশোরীদের জন্য সার্ভাইকাল ক্যান্সার টিকাকরণ কর্মসূচি এবং পিজি হাসপাতালের আরও ১০০ বেডের উদ্বোধন করেন শুভেন্দু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, বিজেপির চিকিৎসক বিধায়ক ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ প্রমুখ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, রাজ্যের যেসব প্রাইভেট হাসপাতাল ১ টাকায় সরকারি জমি নিয়েছে, তাদের ১৫ শতাংশ বেডে সরকারি হাসপাতাল থেকে পাঠানো গরিব মানুষকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা করতে হবে। মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে দিল্লির আধিকারিকদের চিঠিপত্র আদানপ্রদান হয়েছে। রাজ্যের ১ কোটি ৩৬ লক্ষ পরিবার তথা ৬ কোটি রাজ্যবাসী আয়ুষ্মান ভারতের উপভোক্তা হবেন। রাজ্যের মানুষ শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, এইমস, ভেলোর সহ দেশের যেকোনো প্রান্তের হাসপাতালে নিখরচায় চিকিৎসা করাতে পারবেন।’ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে স্বচ্ছভাবে ১০০ পয়েন্ট রোস্টার মেনে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, টেকনোলজিস্ট নিয়োগ করা হবে বলেও জানান তিনি।