Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

কাউন্টারের অভাবে বিনামূল্যের ওষুধ পেতে দুপুর গড়িয়ে বিকাল, গেরুয়া বাংলায় পিজির হাল সেই তিমিরেই!

খাওয়া দাওয়া নেই, স্নান নেই! ডাক্তার দেখাতে এসে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার জোগাড়! এ রাজ্যে পালাবদলের পরেও বদলায়নি রাজ্যের পয়লা নম্বর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পিজির চিত্র।

কাউন্টারের অভাবে বিনামূল্যের ওষুধ পেতে দুপুর গড়িয়ে বিকাল, গেরুয়া বাংলায় পিজির হাল সেই তিমিরেই!
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোহম কর, কলকাতা: খাওয়া দাওয়া নেই, স্নান নেই! ডাক্তার দেখাতে এসে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার জোগাড়! এ রাজ্যে পালাবদলের পরেও বদলায়নি রাজ্যের পয়লা নম্বর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পিজির চিত্র। আউটডোরে ডাক্তার দেখিয়ে বিনামূল্যের ওষুধ নিতে গিয়ে নাকানি চোবানি খেতে হচ্ছে আম জনতাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ালে তবেই মিলছে ওষুধ। কেউ বলছেন, কাউন্টার আরও বাড়ানো উচিত। কারও বক্তব্য, সবকটা কাউন্টার খুলছে না কেন? অনেকেই এই নিয়ম মানিয়ে নিয়েছেন।

Advertisement

জনঔষুধির কাউন্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি টাঙানো। কিন্তু পরিষেবা যেমন ছিল, তেমনই রয়েছে। বিনামূল্যের ওষুধের কাউন্টারের আটটি ঘর। একটি স্টাফদের জন্য বরাদ্দ। সেটি বন্ধই থাকে। পাশের ৮ নম্বর কাউন্টারও বন্ধ। কাউন্টার বন্ধ, কারণ সেখানে রোগীর আত্মীয়রা নিরুপায় হয়ে রাত কাটান। রোগী কতদিন ভরতি থাকবেন, কেউ জানে না। এদিকে, হোটেল ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য নেই। অগত্যা মাথার উপর একফালি ছাদই ভরসা। ফলে, লম্বা লাইন। পাথরপ্রতিমা থেকে আসা এক রোগীর পরিজন লাইনে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, এটাই তো হয়। কিন্তু পরিবর্তন হল যে! সেই ব্যক্তি মুচকি হেসেই বাকি কথা বুঝিয়ে দিলেন। কনক সরকার নামের এক ব্যক্তি তাঁর সন্তানকে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন। বলছিলেন, এক ঘণ্টার উপর দাঁড়িয়ে আছি। খাওয়া দাওয়া হল না। সেই কোন ভোরে মেদিনীপুর থেকে ট্রেন ধরেছি। স্নান হল না। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখালাম। এবার ওষুধের জন্য লাইন।
বাইরে থেকে ওষুধ কিনলে দাম অনেক। বিনামূল্যের কাউন্টারে ওষুধ না পাওয়া গেলে জনঔষুধিতে দাঁড়াতে হবে। সেখানেও লম্বা লাইন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, তাহলে পরিবর্তন হয়ে লাভ কী হল? এমন লাইন তো অ্যাডমিশন কিংবা ইমার্জেন্সিতেও রয়েছে। ওষুধের কাউন্টার সংখ্যা কম, এই অভিযোগ হাসপাতালে আসা সাধারণ মানুষের। পাশ থেকে আবার কেউ বলে ওঠেন, বিনামূল্যে যে পাওয়া যাচ্ছে, এই ঢের। বেসরকারি হাসপাতালে গেলে সময় কম লাগবে, কিন্তু খরচ অনেক বেশি। বাগনান থেকে আসা এক রোগী বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমাদের আবার সময়ের দাম কী! কিন্তু ওই যে শাসকদলের নেতাদের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি, তার কী হবে? হাতে একগুচ্ছ কাগজ নিয়ে ওষুধ নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে এক বয়স্ক মানুষ বলে ওঠেন, বড়ো নেতারা বলেছেন যখন, হবে মনে হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ