Bartaman Logo
২১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিউটাউনের ফ্ল্যাটে প্রেমিকার ঝুলন্ত দেহ, হাতের শিরা কাটা অবস্থায় উদ্ধার লিভ-ইন পার্টনারও

নিউটাউনের ফ্ল্যাটে প্রেমিকার ঝুলন্ত দেহ ও সৌভিকের হাতের শিরা কাটা অবস্থায় উদ্ধার। আত্মহত্যা না খুন? বিস্তারিত জানুন।

নিউটাউনের ফ্ল্যাটে প্রেমিকার ঝুলন্ত দেহ, হাতের শিরা কাটা অবস্থায় উদ্ধার লিভ-ইন পার্টনারও
  • ২১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মাথার উপর ঝুলছে প্রেমিকার দেহ! নীচে গোটা মেঝে ভেসে যাচ্ছে রক্তে। প্রেমিক তথা লিভ-ইন পার্টনারের হাতের শিরা কাটা! যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। রবিবার রাতে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে দুই লিভ-ইন পার্টনারের এহেন দৃশ্য দেখে শিউরে উঠছেন বাসিন্দারা। তাঁদের এমন করুণ পরিণতি দেখে পড়শিরা হতবাক। জখম প্রেমিক কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আত্মহত্যা নাকি খুন? রহস্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। মৃত তরুণীর নাম তৃষা সাহা (২৫)। তাঁর বাড়ি বারাকপুরে। চিকিৎসাধীন যুবকের নাম সৌভিক রায় (৩০)। তিনি নৈহাটির বাসিন্দা।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র মাস চারেক আগে সৌভিক ও তৃষা নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। ফ্ল্যাট মালিকের সঙ্গে তাঁদের যথারীতি চুক্তিপত্র হয়েছিল। মাসে সাড়ে ১১ হাজার টাকায় তাঁরা ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। সৌভিক আইটি সংস্থায় কর্মরত। তৃষাও চাকরি করতেন। দু’জন ফ্ল্যাট মালিককে জানিয়েছিলেন, কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের সুবিধার জন্যই তাঁরা বারাকপুর ছেড়ে নিউটাউনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিচ্ছেন। আশপাশের অন্যান্য বাসিন্দার কথায়, এই চার মাসে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া বা মনোমালিন্য হতে কেউ দেখেননি। এমনকি, চিৎকার বা কথা কাটাকাটিও শোনেননি কেউ। দু’জনেরই শান্ত স্বভাব। হাসিমুখে থাকতেন সবসময়। 
ফ্ল্যাট মালিকের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ ইতিমধ্যে জানতে পেরেছে, সৌভিকই নাকি রাতে তাঁকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তৃষা আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশকে খবর দিতে বলেন। ফ্ল্যাট মালিক দৌড়ে এসেছিলেন। কলিং বেলও বাজান। কিন্তু কেউ দরজা খোলেনি। তিনি সৌভিককে ফোনও করেন তখন। ১০-১২বার ফোন বেজে যায়। ফ্ল্যাট মালিকের দাবি, তখন সৌভিক হাতের শিরা কাটা অবস্থায় কোনোরকমে দরজা খোলেন। তৃষার দেহ তখন ঝুলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দু’জনকে উদ্ধার করে। শিরা কাটার জন্য প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে সৌভিকের। তরুণীর পায়েও নাকি রক্তের ছাপ ছিল! সৌভিক কি কোনো কারণে তাঁর পা ধরেছিলেন? খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফ্ল্যাট থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। তৃষা আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাঁকে খুন করা হয়েছে, এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, প্রেমিকের সামনে কীভাবে প্রেমিকা আত্মহত্যা করলেন? সৌভিক তো বাঁচানোর চেষ্টা করতেন। দু’জনের মধ্যে চিৎকার চেঁচামেচিও হত। কিন্তু সেরকম কোনো আভাসও পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর কি সৌভিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন? এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘সৌভিককে জেরা করলেই পুরো বিষয়টির কিনারা হবে। কারণ, তিনিই ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী। দুই পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ