Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লিটনের সঙ্গে যোগ বিহারের ২ গ্যাংস্টারের, শেল্টার শার্প শ্যুটারদের

রহড়া থেকে ধৃত মধুসূদন মুখোপাধ্যায় ওরফ লিটনকে জেরা করে নতুন নতুন তথ্য হাতে আসছে তদন্তকারীদের।

লিটনের সঙ্গে যোগ বিহারের ২ গ্যাংস্টারের, শেল্টার শার্প শ্যুটারদের
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বরানগর: রহড়া থেকে ধৃত মধুসূদন মুখোপাধ্যায় ওরফ লিটনকে জেরা করে নতুন নতুন তথ্য হাতে আসছে তদন্তকারীদের। শুধুমাত্র দেশি বিদেশি অস্ত্রের কারবার নয়, তাঁর যোগাযোগ ছিল বিহারের গ্যাংস্টারদের সঙ্গেও। এমনকী, রহড়ার রিজেন্ট পার্কের ফ্ল্যাটে তিনি আশ্রয় দিয়েছিল সার্প শ্যুটারদের। অস্ত্র ব্যবসায়ী মধুসূদন মুখোপাধ্যায়কে জেরা করে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরে সার্প শ্যুটারদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এছাড়া এতদিন ধরে কারা তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র নিয়েছে, কোনও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুকের দোকানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রহড়া থেকে ধৃত মধুসূদনের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় অস্ত্রের পাহাড় দেখে চমকে গিয়েছিলেন দুঁদে পুলিস কর্তারা। তাঁকে জেরা পর্বেও উঠে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দারা জেনেছেন, বিহারের বেশ কয়েক জন গ্যাংস্টারের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল। নিয়মিত কথা হতো। এমনকী, শার্প শ্যুটারদের নিজের বাড়িতেও তিনি বেশ কয়েক বার আশ্রয় দিয়েছেন। যারা এই রাজ্য ছাড়াও ভিন রাজ্যে অপরাধের পর তাঁর ঘর ‘সেফ সেল্টার’ হিসেবে ব্যবহার করেছিল। লিটনের কাছে থেকে অস্ত্র নিয়ে অপরাধ ঘটানোর পর ফের তাঁর কাছে সেই অস্ত্র জমা দিয়ে গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। রিজেন্ট পার্কের আবাসনে মধুসূদনের ফ্ল্যাট ছিল গ্রাউন্ড ফ্লোরে। বাকি অংশে দোকান ও গ্যারাজ রয়েছে। তাঁর ফ্ল্যাটে দরজার দুই পাশে সিঁড়ি ও লিফ্ট রয়েছে। আবাসনে কোনও সিসি ক্যামেরা নেই। ঝাঁ চকচকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে থেকে তাঁর আবাসন মিনিট দশেকের দূরত্বে। বিটি রোডের তুলনায় ওই রাস্তায় পুলিসি নজর কম থাকায় তা অনেক সেফ। এই সমস্ত সুযোগ থাকায় ধুরন্ধর মস্তিষ্কের মধুসূদন সার্প শ্যুটারদের থাকার জায়গা দিয়েছিল। তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, দুই ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের দুষ্কৃতীদের তিনি অস্ত্র সরবরাহ করতেন। ২০০৬ সালে খড়দহ থানায় গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তাঁর থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছিল। সেখান থেকে পুলিস বহু অস্ত্র ক্রেতার নাম পেয়েছিল। এবারও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্র কারাবারিদের তথ্য পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা। তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় হাজার রাউন্ড কার্তুজের পাশাপাশি প্রচুর কার্তুজের খোলও পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, বন্দুক চালানোর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে তিনি কার্তুজের খোল জোগাড় করতেন। পরে ওই সমস্ত খোল জমা দিয়ে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান থেকে কার্তুজ কিনতেন। এরপর তা ঘুরপথে অস্ত্র কারাবারিদের কাছে পাঠাতেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ