সংবাদদাতা, লালবাগ: লিচুগাছ ফুলে ভরে উঠলেও পরাগমিলনে সাহায্যকারী মৌমাছির দেখা নেই। ফলে লালবাগ মহকুমায় লিচু চাষিরা ফলনে ঘাটতির আশঙ্কা করছেন। পরিযায়ী মৌমাছির দেখা না পাওয়ার জন্য লাগামছাড়া মধু সংগ্রহকেই চাষিরা দায়ী করেছেন।
সংবাদদাতা, লালবাগ: লিচুগাছ ফুলে ভরে উঠলেও পরাগমিলনে সাহায্যকারী মৌমাছির দেখা নেই। ফলে লালবাগ মহকুমায় লিচু চাষিরা ফলনে ঘাটতির আশঙ্কা করছেন। পরিযায়ী মৌমাছির দেখা না পাওয়ার জন্য লাগামছাড়া মধু সংগ্রহকেই চাষিরা দায়ী করেছেন।
সাধারণত লিচুগাছে মুকুল ধরতেই একপ্রকার বড় আকারের পরিযায়ী মৌমাছি আসতে শুরু করে। আম ও লিচুবাগান লাগোয়া বট, অশ্বত্থ প্রভৃতি বড় গাছে এই মৌমাছির মৌচাক লক্ষ্য করা যায়।
মুর্শিদাবাদ জেলা উদ্যানপালন আধিকারিক প্রিয়রঞ্জন সন্নিগ্রাহী বলেন, লিচুর ফুলে পরাগসংযোগে পরিযায়ী মৌমাছি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। সাধারণত, মার্চ মাস পড়ার আগে থেকেই এলাকায় অনেক মৌচাক লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এবছর খুব কম মৌচাক দেখা যাচ্ছে।
মুর্শিদাবাদের আমের সুখ্যাতি জগৎজোড়া। আমের পাশাপাশি জেলাজুড়ে লিচুবাগান রয়েছে। লিচুর মরশুমে ভালো ফলনের জন্য জেলার বিভিন্ন প্রান্তের লিচু চাষি ও বাগান মালিকরা অপেক্ষা করে থাকেন। লালবাগ মহকুমার মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকে শতাধিক লিচু বাগান রয়েছে। এবছর প্রায় প্রতিটি গাছ ফুলে ভরে উঠছে। কিন্তু এখনও পরাগমিলনের অনুঘটক পরিযায়ী মৌমাছির দেখা না মেলায় চাষিদের মুখে হাসি নেই। মৌমাছি না আসায় লিচুর ফলনে ব্যাপক ঘাটতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
জিয়াগঞ্জ শহরের রায়চাঁদপুরের বাসিন্দা বিশ্বনাথ মণ্ডল তিন দশকের বেশি সময় ধরে আম ও লিচু চাষ করে আসছেন। বিশ্বনাথবাবু বলেন, লিচুর ফুলে প্রচুর পরিমাণে মধু থাকে। এই মধুর লোভেই প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে সুন্দরবন সহ আশপাশের এলাকার বড় আকারের মৌমাছি এদিকে আসতে শুরু করে। তারা বড় গাছের ডালে মৌচাক বানায়। একটি গাছে সর্বাধিক ৮-১০টি বড় আকারের মৌচাক লক্ষ্য করা যায়। এই মৌমাছি লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহের সময়ে পরাগমিলনে অনুঘটকের কাজ করে। ফলে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই লিচুর গুটি আসতে শুরু করে। কিন্তু এই মরশুমে গাছ ভরে ফুল এলেও মৌমাছির দেখা নেই।
লালবাগের লিচু চাষি ধনঞ্জয় মণ্ডল বলেন, অন্যবছর এসময় বাগানে ঢুকলেই মৌমাছির গুনগুন শব্দে কান পাতা মুশকিল হয়ে পড়ে। কিন্তু এবার মৌমাছির দেখা নেই। আশেপাশে কোনও মৌচাক দেখা যাচ্ছে না।
মুর্শিদাবাদ থানার আয়েসবাগের লিচু চাষি রাজেশ ঘোষ বলেন, লিচুর মরশুমে এক-একটি মৌচাক থেকে ৮-১২ কেজি ভালো মানের মধু পাওয়া যায়। সেকারণে অনেকে রাতের অন্ধকারে মশাল জ্বালিয়ে মৌমাছি মেরে মধু সংগ্রহ করে। রানি ও পুরুষ মৌমাছি মারা পড়ায় তাদের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। মনে হচ্ছে, সেকারণেই এবছর সেভাবে মৌমাছির দেখা মিলছে না।