বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ এলাকায় মদের দোকান বন্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে জল্পনা চললেও শেষ পর্যন্ত আবগারি দপ্তরের কোনো লিখিত নির্দেশিকা না আসায় বৃহস্পতিবার সারারাত খোলা ছিল সমস্ত দোকানই। তবে আগাম নিষেধাজ্ঞার জেরে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ফলে, গতবারের তুলনায় এবার কৌশিকীর রাতে অনেকটাই কমেছে সুরা বিক্রি।
গত ৮ আগস্ট তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের (টিআরডিএ) প্রস্তুতি বৈঠকে উৎসবের পবিত্রতা বজায় রাখতে রামপুরহাট থেকে তারাপীঠ পর্যন্ত সমস্ত মদের দোকান তিন দিন বন্ধ রাখার একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। রামপুরহাট বিধায়ক ধ্রুব সাহা থেকে মহকুমাশাসক অশ্বিন বি রাঠোর সংবাদমাধ্যমের সামনে এই বিধিনিষেধের কথা নিশ্চিত করলেও, উৎসবের ঠিক মুখে লিখিত কোনো সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। আবগারি দপ্তর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশ না দেওয়ায় চরম দোলাচলে পড়েন ব্যবসায়ী ও সুরাপ্রেমীরা।
এদিকে কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা না পৌঁছানোয় শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে তারাপীঠের ২৭টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকানই সারারাত খোলা রাখা হয়। তবে আগাম দোকান বন্ধের খবর প্রচারিত হওয়ায় বিক্রিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
আবাগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর কৌশিকীর এক রাতেই ১ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছিল। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকায়। তবে দোকান বন্ধ থাকতে পারে, এই আশঙ্কায় কৌশিকী তিথি শুরুর আগের দু’দিনে প্রায় ২ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে তারাপীঠে।
গত বছর কৌশিকী তিথি ও পরের দুদিন মিলিয়ে মোট ৫ কোটি ৩ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছিল। এবার শনিবার পর্যন্ত সেই বিক্রিবাট্টা কোন জায়গায় দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর রয়েছে আবগারি দপ্তরের। যদিও এদিন বিকেলের পর থেকেই পুণ্যার্থীরা চলে যেতে শুরু করেছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, কৌশিকীতে দোকান বন্ধ থাকবে, এমন খবর কলকাতা ও ভিন রাজ্য থেকে আসা পর্যটকদের কাছে আগেই পৌঁছে যায়। ফলে দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশ বাইরে থেকেই মদের বোতল সঙ্গে করে তারাপীঠে এসেছিলেন। দোকান খোলা থাকলেও কাউন্টারে আশানুরূপ ভিড় জমেনি। প্রশাসনের আগাম ও অস্পষ্ট ঘোষণার কারণেই চলতি বছরে রাজস্বে এই ঘাটতি দেখা দিল বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।