নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: টেবিলের উপর সাজানো নামিদামী ব্র্যান্ডের হুইস্কি, ভোদকার বোতল। কয়েকটা নীচে রাখা। সঙ্গে থার্মোকলের পেটি। তার থেকে উঁকি মারছে বিয়ারের বোতল। সব মিলিয়ে তিন চারটি ব্র্যান্ডের স্ট্রং বিয়ার। ঝলকে দেখলে মনে হবে, পুরোদস্তুর এফ এল শপ। শুধু সাইন বোর্ডটাই নেই! ক্রেতারা যাচ্ছেন। টাকা দিয়ে মদ কিনছেন। কেউ কেউ আবার ঘরে ঢুকে কয়েক পেগ গলায় ঢেলেও নিচ্ছেন। ক্রেতারা সবাই বুদ্ধিদীপ্ত! সবাই ডাক্তারি পড়ুয়া। আর কিছুদিন বাদে সকলেই মহান পেশায় নাম লেখাবেন। ফলে, এতক্ষণ যেটাকে ‘এফ এল শপ’ বলে ভ্রম হচ্ছিল সাধারণ মানুষের, সেটা আসলে তা নয়। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল। তার মধ্যেই চলছে দেদার মদের বিক্রির কারবার। ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ সামনে আসতেই তোলপাড়। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু হস্টেলের ভিতর এভাবে মদ বিক্রি কেন? জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেদিনই বয়েজ হস্টলের একটি ঘরে অস্থায়ী ভাবে মদের দোকান খোলা হয়েছিল। যিনি মদ বিক্রি করছিলেন তিনি বাইরের লোক। বিশেষ শর্তে তাঁকে হস্টেলের মধ্যে মদ, বিয়ার বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হয়। এমএরপি’র থেকে দাম প্রায় দু’শো থেকে আড়াইশো টাকা বেশি দরে বোতল বিক্রি হচ্ছিল। কেউই দরদাম করছেন না। বোতল হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁকা। দ্রব্যগুণে বেলাল্লাপনারও অভিযোগ উঠেছে। সেদিনের ভিডিও এখন ডাক্তারি পড়ুয়া এবং চিকিৎসকদের হাতে হাতে ঘুরছে। ঘটনাটির কথা শুনেছেন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মঙ্গলবার বলেন, ‘ওই ভিডিওর কথা শুনেছি। এখনও দেখেনি। হাতে আসুক। তারপর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ এক আধিকারিক বলেন, ডাক্তারি পড়ুয়াদের এমন ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় কলেজের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



