নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বাঁকুড়ার ৯৬ শতাংশ ঘরের লিন্টেলস্তর পর্যন্ত কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। জেলার প্রায় ৫৫০ বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের মধ্যে যে কয়েকটি জেলায় ওই গৃহ নির্মাণ প্রকল্প ভালো জায়গায় রয়েছে, বাঁকুড়ার তারমধ্যে অন্যতম বলে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের দাবি। তবে রাইপুর সহ জেলার কয়েকটি ব্লকের কাজ নিয়ে আধিকারিকরা উদ্বিগ্ন। ওইসব ব্লকে ঢিমেতালে কাজ চলছে। সেখানে কাজে গতি আনতে প্রশাসন তৎপর হয়েছে।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অগ্রগতি জানতে আমরা দু’সপ্তাহ অন্তর পর্যালোচনা বৈঠক করি। রাইপুর ব্লকে কাজের শ্লথগতির বিষয়টি আমাদের নজরে পড়েছে। বিডিওকে কাজে গতি আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাইপুর ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বর্ষার কারণে কাজে কিছুটা ঢিলেমি হয়েছে। উপভোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য পঞ্চায়েতগুলিকে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় প্রায় ৭৩ হাজার উপভোক্তা বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আর্থিক সাহায্য পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ায় রাজ্য তার ভাগের টাকায় উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের দু’টি কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। ওই টাকায় বর্তমানে জেলাজুড়ে পুরো দমে কাজ চলছে। পুরুলিয়া সহ অন্যান্য জেলায় বালির জোগানের সমস্যাজনিত কারণে গৃহ নির্মাণে বিঘ্ন ঘটে। বাঁকুড়ার ক্ষেত্রে সেই সমস্যা ছিল না। জেলার প্রায় ৪৪টি বালি খাদান থেকে তা সরবরাহ করা হয়। তবে অন্যান্য কারণে জেলার কিছু ব্লকে কাজ সেভাবে এগয়নি।৭ জুলাই জেলা প্রশাসনের তরফে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী কোতুলপুর, সারেঙ্গা, বাঁকুড়া-২, সিমলাপাল, তালডাংরা, মেজিয়া ও রাইপুর ব্লক ‘রেড জোনে’ রয়েছে। লিন্টেল পর্যন্ত বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে জেলার গড় যেখানে ৯৬ শতাংশ, রাইপুরে তা ৯০ শতাংশ। ওইদিন পর্যন্ত সারেঙ্গা ও বাঁকুড়া-২ ব্লকে একটিও বাড়ি পুরোপুরি সম্পূর্ণ হয়নি। প্রশাসনের তালিকায় প্রথম পাঁচটি ব্লক হল শালতোড়া, ইন্দাস, হীড়বাঁধ, খাতড়া ও বড়জোড়া। সবচেয়ে বেশি বাড়ি সম্পূর্ণ হয়েছে জয়পুর ব্লকে। সেখানে ইতিমধ্যে ৮২জন উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করে ফেলেছেন। পাত্রসায়রে ৭২ জন, বিষ্ণুপুরে ৬৩ জন, ইন্দাসে ৬০ জন, রাইপুরে ৪৩ জন ও বড়জোড়ায় ৪২ জন উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করেছেন।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, জেলার ১৬ জন বাড়ির জন্য পাওয়া প্রথম কিস্তির টাকা ফেরত দিয়েছেন। জয়পুর ব্লকে সবচেয়ে বেশি সাতজন টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন। এজেলার বাসিন্দা হলেও কেউ কেউ অন্যত্র চলে গিয়েছেন। সেখানে পাকাপাকি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই কারণে টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাঁকুড়া থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরে গিয়েছেন, এমন কয়েকজন উপভোক্তার কথা আমরা জানতে পেরেছি।