নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বৃষ্টি উপেক্ষা করে কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা অফিসের সামনে মানুষের লম্বা লাইন। গভীর রাত থেকেই লাইন পড়েছে। সবাই এসেছেনপরিচয়পত্রেরভ্রম সংশোধন করতে। দীর্ঘ সাত-আট ঘণ্টা ধরে একেকজন দাঁড়িয়ে আছেন। ‘সার’, ‘এনআরসি’-র ভয়ে নথিপত্রের ভ্রম সংশোধনের হিড়িক পড়েছে বলে ধারণা প্রশাসনের আধিকারিকদের। বিগত কয়েক দিন ধরেই এই ছবি দেখা যাচ্ছে সদর মহকুমাশাসকের অফিসে। আতঙ্ক এতটাই ছড়িয়েছে যে, দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ এফিডফিট করছেন। চাপ সামাল দিতে মহকুমা প্রশাসন দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০টি এফিডেফিট করার কোটা বেঁধে দিয়েছে।
কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক শারদ্বতি চৌধুরী বলেন, বহু মানুষ তাদের পরিচয়পত্রের ভ্রম সংশোধন করাতে আসছেন। বিগত কয়েকদিন ধরে সেই সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। দূর দুরান্ত থেকে যাঁরা আসছেন, সুশৃঙ্খলভাবে তাঁদের সকলের যাতে এফিডেফিট করা যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।
‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তাল রাজনৈতিক মহল। রাজ্য থেকে দেশ, সর্বত্রই এই নিয়ে চর্চা চলছে। এসআইআরের কারণে বিহারে ভোটার তালিকায় বড় রকমের হেরফের হয়ে গিয়েছে। বাংলাতেও ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের তোড়জোড় শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। সেইসঙ্গে রাজ্যজুড়ে ফের একবার এনআরসি’র আতঙ্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। বহু মানুষে ঘুম উড়েছে ছিন্নমূল হওয়ার আশঙ্কায়।
প্রশাসনের আধিকারিকদের মতে, সাধারণ মানুষের পরিচয় পত্রে ভুল থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড, এমনকী জন্ম শংসাপত্রেও ভুলভ্রান্তি থেকেই যায়। সময়ের সঙ্গে তা সংশোধন করে নেন অধিকাংশই। বিগত দিনগুলোতে এইসব নিয়ে সেভাবে উচ্চবাচ্য হয়নি। তবে দেশজুড়ে পরিচয়পত্র নিয়ে টানাহেঁচড়ার কারণে ফের একবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
চাপরা ব্লকের লক্ষ্মীগাছা থেকে রাত তিনটের সময়ে সদর মহকুমা শাসকের অফিসে এসেছিলেন লুৎফা শেখ। তিনি বলেন, আমার নামের বেশ কিছু জায়গায় পদবী বিবি রয়েছে। সেটাই পরিবর্তন করতে চাইছি। গভীর রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আর এক মহিলা বিলকিস শেখ বলেন, আমার বাচ্চার জন্ম সার্টিফিকেটে ভুল আছে। সেটাই ঠিক করব। একই অবস্থা কালীগঞ্জের পানিঘাটা থেকে আসা ডালিয়া মণ্ডলের। তিনিও ভোর পাঁচটায় সদর মহকুমা শাসকের অফিসে লাইন দিয়েছিলেন পদবি ঠিক করতে। চাপড়া থেকে এসেছিলেন কৃষ্ণা ভুঁইমাল্লি। তিনিও তড়িঘড়িও পদবি ঠিক করতে চান। যদিও প্রত্যেকেরই এই ভ্রম সংশোধনের ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে। তবে সকলে এক বাক্যে বলছেন, এনআরসি, এসআইআর হচ্ছে। পরিচয় পত্রেকোনও ভুল ভ্রান্তি থাকলে যদি নাম বাদ পড়ে যায়। তাই সেগুলো ঠিক করে নিচ্ছি।