Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

লীলাকথা

ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরও যে নির্গুণ ভগবানের গুণের পরিমাপ করতে পারেন না, ভক্তজনের শ্রেষ্ঠতম আশ্রয় সেই ভগবানের লীলাকথা শ্রবণে কি রসিকজনের আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হতে পারে?

লীলাকথা
  • ১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরও যে নির্গুণ ভগবানের গুণের পরিমাপ করতে পারেন না, ভক্তজনের শ্রেষ্ঠতম আশ্রয় সেই ভগবানের লীলাকথা শ্রবণে কি রসিকজনের আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হতে পারে?

Advertisement

ঋষিরা বললেন, হে সূত, তুমি পণ্ডিত ও ভগবদ্ভক্ত, সুতরাং ভক্তের একান্ত আশ্রয় ভগবানের সুনির্মল লীলাকথা আমাদের নিকট বিস্তৃতভাবে বর্ণনা কর—আমরা অত্যন্ত শ্রবণোৎসুক হয়েছি। হে সূত, মহামতি ও ভক্তপ্রবর রাজা পরীক্ষিৎ ব্যাসনন্দন শুকদেবের নিকট হতে যে ভগবৎ-তত্ত্ব অবগত হয়ে,  গরুঢ়ধ্বজ শ্রীহরির চরণযুগল প্রাপ্ত হয়েছিলেন, সেই ভগবানের লীলাকথা তুমি আমাদের শ্রবণ করাও। হে সূত, তুমি সেই অতি শ্রেষ্ঠ, পবিত্র, ভক্তিরসাশ্রিত, ভগবানের লীলাযুক্ত, ভক্তিমানের পক্ষে একান্ত প্রিয় পরীক্ষিতের কাহিনী আমাদের নিকট সবিস্তারে বল।
সূত বললেন, অহো! আমি বর্ণসঙ্কর হয়েও আপনাদের মতো জ্ঞানবৃদ্ধাগণের স্নেহাদর লাভ করে নিজেকে কৃতার্থ ও ধন্য মনে করছি। মহৎ ব্যক্তিদের সাদর সম্ভাষণ ও আলাপাদির দ্বারা নিম্নবর্ণজাত ব্যক্তির মানসিক ক্লেশ ও সঙ্কোচ দূরীভূত হয়।
অপরিমেয় শক্তির আধার শ্রীভগবান, ভক্তবাৎসল্য প্রভৃতি গুণপ্রাধান্য হেতু অনন্ত বলে অভিহিত হয়ে থাকেন। ভক্তশ্রেষ্ঠদের একান্ত আশ্রয় সেই ভগবানের নাম কীর্তনেই সকল দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যায়—আর অধিক কি বলার আছে?
ব্রহ্মাদি দেবগণ যাঁকে প্রার্থনা করেন, সেই লক্ষ্মীদেবী তাঁদের পরিত্যাগ করে, অপ্রার্থতা হয়েও যে শ্রীভগবানের চরণরেণুলাভের প্রার্থনা করেন, সেই ভগবান অপেক্ষা অধিক গুণ কারোর নেই। এমন কি সমান গুণও কারো নেই—এতদূর বলা হলেও যথেষ্ট বলা হলো না।
আরও দেখ, যাঁর পাদনখ থেকে নির্গলিত হলেও জলরাশি ব্রহ্মা কর্তৃক অর্ঘরূপে সমর্পিত হয়ে ও মহাদেবের সঙ্গে মিলিত হয়ে সমগ্র জগৎ পবিত্র করছে, সেই মোক্ষদাতা মুকুন্দ ব্যতীত সংসারে আর কেউ কি ভগবৎপদবাচ্য হতে পারেন? (অর্থাৎ, হতে পারেন না)।
ধীমান ব্যক্তিগণ যে মুহূর্তে ভগবানের প্রতি অনুরক্ত হন, সেই মুহূর্তেই তাঁরা জাগতিক সকল ভোগ্যবস্তুর উপর থেকে গভীর আসক্তি বর্জন করে অহিংসা ও শান্তির পরাকাষ্ঠা পরমহংস অবস্থা প্রাপ্ত হন।
হে সূর্যসদৃশ তেজস্বী ঋষিগণ, আপনাদের দ্বারা জিজ্ঞাসিত হয়ে আমি যথাসাধ্য আপনাদের নিকট ভগবানের লীলাকথা বর্ণনা করছি। পক্ষিকুল যেমন তাদের শক্তি অনুযায়ী অনন্ত গগনে বিচরণ করে, সেইরূপ পণ্ডিত ব্যক্তিও তাঁর জ্ঞানানুসারে শ্রোতার নিকট অনন্তগুণময় ভগবানের লীলাকথা পরিবেশন করেন। একদা রাজা পরীক্ষিৎ মৃগয়ার উদ্দেশ্যে অরণ্যে গমন করে মৃগের পশ্চাতে ধাবিত হয়ে একসময় অত্যন্ত পরিশ্রান্ত, ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে জলাশয় দেখতে না পেয়ে এক আশ্রমে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি এক শান্ত, ধ্যাননিমিলিতনেত্র মুনিকে দেখতে পেলেন।
অধ্যাপিকা গীতা মাইতি অনুদিত ‘শ্রীমদ্ভাগবতম্‌’ (১ম স্কন্ধ) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ