দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: বিমানের মতো দূরপাল্লার ট্রেনেও ওজন মেপে লাগেজ নিতে হবে রেল যাত্রীদের। সেই বিধিই এবার কঠোরভাবে কার্যকরের দিকে এগচ্ছে রেল। বিমানের মতো ট্রেনেও টিকিট বুকিংয়ের সময় আসন বাছাই করা যায় কি না, সে ব্যাপারে ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা হয়ে গিয়েছে। এরই সঙ্গে আসছে লাগেজ। এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা সহযাত্রীর কথা বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে প্রচুর লাগেজ নিয়ে ট্রেনে উঠে পড়েন। নির্দিষ্ট কামরার প্রায় সবক’টি আসনের তলায় মালপত্র রেখে দেন। অন্য যাত্রীদের এর ফলে যেমন লাগেজ রাখতে সমস্যা হয়, তেমনই স্বাভাবিক হাঁটাচলার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। সরকারি সূত্রের খবর, বিভিন্ন সময় এই ইস্যুতে অসংখ্য অভিযোগ আসে রেলওয়ে জোনগুলিতে। অন-বোর্ড রেল কর্মীদের কাছেও অভিযোগ জানান যাত্রীদের একাংশ। অবশেষে এক্ষেত্রে নড়েচড়ে বসছে রেল।
ট্রেনে লাগেজের সর্বাধিক ওজনের মাপকাঠি শ্রেণিভিত্তিতে আলাদা। কী সেই সীমারেখা? রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, এসি ফার্স্ট ক্লাসে একজন যাত্রী ৭০ কেজি পর্যন্ত লাগেজ নিতে পারেন। তার উপর লাগেজের ওজন হলেই বাড়তি টাকা গুনতে হবে। তবে এক্ষেত্রেও সর্বাধিক ১৫০ কেজি পর্যন্ত মালপত্র নিতে পারবেন তিনি। তার বেশি নয়। একইভাবে এসি টু টিয়ারে ৫০ কেজি, থার্ড এসি স্লিপার এবং চেয়ার কারে ৪০ কেজি, স্লিপার ক্লাসে ৪০ কেজি এবং সেকেন্ড ক্লাসে ৩৫ কেজি পর্যন্ত লাগেজ বিনা খরচে বহন করতে পারবেন যাত্রী। এর বেশি হলে অতিরিক্ত মাশুল দিতে হবে।
মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট ওজন মেনে ট্রেনে লাগেজ নিয়ে যাওয়ার নিয়ম ইতিমধ্যেই কার্যকর রয়েছে। কিন্তু তা কেউ মানে না। স্টেশনেও বিশেষ নজরদারি চালানো হয় না। ফলে রেলযাত্রীদের একটি অংশকে সমস্যায় পড়তে হয়। দূরপাল্লার ট্রেনে কেউ যে খালি হাতে উঠবেন না, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু এই সংক্রান্ত কিছু নিয়ম প্রত্যেককেই এবার থেকে মেনে চলতে হবে। সাফ জানিয়ে দিচ্ছে রেলমন্ত্রক।
জানা যাচ্ছে, নিয়ম না মানলে রেল আইন অনুযায়ী কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে যাত্রীদের। পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনকারী যাত্রীদের জরিমানাও করতে পারেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রেলকর্মীরা। তবে এই নিয়মের কঠোর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সঙ্গত কারণেই কিছু প্রশ্ন উঠছে। নিয়ম পালনে কড়া হতে চাইছে রেল বোর্ড।
কিন্তু কোন স্টেশনে লাগেজের ওজন মাপার কতগুলি যন্ত্র আছে? তার সদুত্তরই নেই রেল আধিকারিকদের একটি অংশের কাছে। ফলে সিদ্ধান্ত মতো নিয়ম পালনে রেলকে বরাবরের মতোই চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।