Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আলোকসজ্জা, থিমের যুগলবন্দি বাঁশবেড়িয়ায়

কোনও এককালে বাঁশবেড়িয়ায় শুরু হয়েছিল কার্তিক পুজো।

আলোকসজ্জা, থিমের যুগলবন্দি বাঁশবেড়িয়ায়
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কোনও এককালে বাঁশবেড়িয়ায় শুরু হয়েছিল কার্তিক পুজো। ঐতিহ্যের সরণি ধরে তার অগ্রগতি হয়েছে বটে কিন্তু ইতিহাসের লেখাজোখা মেলে না। কালে কালান্তরে সেই পুজোর গায়েও লেগেছে থিমের আধুনিক ঝড়। তাতে যেমন মনোহর হয়েছে পুজোর আয়োজন তেমনই পুজো মরশুমের সময়কাল বেড়েছে। বিকল্প আনন্দের বাড়তি সমরোহ খুঁজে পেয়েছে নাগরিক মহল্লা। আবার বাঁশবেড়িয়ার কার্তিক পুজোর সময়েই একগুচ্ছ দেবদেবীর পুজো এবং সেগুলিতেও থিমের সমাবেশ হুগলিকে করেছে অভিনব। ঝলমলে মণ্ডপ আর আলোর বর্ণময় সজ্জায় ভোল বদলাতে শুরু করেছে ঐতিহ্যের শহর।

Advertisement

বাঁশবেড়িয়ার অভিযান বহু বছর ধরে রাজা কার্তিকের পুজো করে আসছে। এবার সেই ধারাতেও আধুনিকতার পরত জুড়তে উদ্যোগ নিয়েছেন অভিযানের উদ্যোক্তারা। অভিনব প্রতিমাই নয়, থিমের বর্ণময় বিন্যাসেও চোখ ধাঁধাতে কোমর কষছেন উদ্যোক্তারা। অভিযানের এবারের থিম ‘বন্ধ্যা বসুন্ধরা’। নানা কারণে জলহীন, সবুজহীন হতে যাচ্ছে পৃথিবী। সেই বন্ধ্যা দিনের আতঙ্ককেই সজীব করে মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরা হচ্ছে। খুবই সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়ে প্লাস্টিক দূষণ, বৃক্ষনিধনের মতো আধুনিক সমস্যার উপরে আলো ফেলতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। পুজো উদ্যোক্তা মনতোষ বিশ্বাস বলেন, খড়, মাটি, প্লাস্টিক বোতলের ছিপি, পাটকাঠি এবং কিছু হাতে আঁকা ছবি নিয়ে অভিনব মণ্ডপসজ্জা করা হচ্ছে। বিশেষ রকমের আলোকসজ্জাও মণ্ডপে থাকবে।
বাঁশবেড়িয়ার অভিযাত্রী ক্লাবের এবারের থিম, সৃষ্টি। মূলত, আদিবাসী অধ্যুষিত সাবেক সময়ের সংস্কৃতিকেই মণ্ডপসজ্জার আধার করা হয়েছে। আদিবাসী তরুণ, তরুণীর মডেল, তাঁদের ঢাকঢোল, পোশাককে কেন্দ্র করেই মণ্ডপসজ্জার সুর সাধা হয়েছে। অভিযাত্রী ক্লাবে নটরাজ শিবের পুজো করা হয়। দেবমূর্তিতেও থাকছে থিমের ছায়া। আলোকসজ্জাও থিমের অনুসরণেই করা হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তা প্রণয় দাস বলেন, সৃষ্টির আদিতে থাকা সংস্কৃতির এক নতুন ভাষ্য আমরা তুলে ধরছি। নটরাজ শিব নিজেও আদিদেবতা। তাই দুইয়ের অনবদ্য মেলবন্ধনই আমাদের পুজোর মূল আকর্ষণ। জুনিয়র বালকসংঘ দৃষ্টিদর্পণ থিম নিয়ে তাদের নারায়ণ পুজোর মণ্ডপসজ্জায় মাতিয়ে দিতে চাইছে। কাচ ও গাছের নানা অংশের ব্যবহারে এক বিশেষ রকমের মণ্ডপসজ্জা এখানে দেখা যাবে। মানুষের অন্তর, মনের আলো-আধাঁরিকেই তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। পুজো উদ্যোক্তা শুভ সান্যাল বলেন, আমাদের পুজো এবার ৬০ বছরে পড়েছে। স্থিতিকর্তা নারায়ণকে আমরা দক্ষিণের দেবমূর্তির আদলে হাজির করব। সঙ্গে অভিনব মণ্ডপ ও আলোকসজ্জা থাকবে। একদা কুলীন শহরের সমস্ত বৈভবই প্রায় খসে পড়েছে। ঐতিহ্যের ছোঁয়াচটুকু থেকে গিয়েছে শুধু কার্তিক পুজোর আয়োজনকে ঘিরে। তাই মনপ্রাণে শহরকে ভিন্ন সাজে সাজিয়ে তুলতে চলছে অবিরাম প্রয়াস। পুজো মরশুমের অন্তিম পর্বকে ঘিরে এখন বিপুল ব্যস্ততা সাবেক বন্দর শহরের অলিগলি রাজপথে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ