নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আলোর উত্সব কালীপুজোয় বাড়িতে আসতে পারেন ‘ভূতের রাজা’। বেশি না, তার জন্য আশি টাকা খরচ করতে হবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আলোর উত্সব কালীপুজোয় বাড়িতে আসতে পারেন ‘ভূতের রাজা’। বেশি না, তার জন্য আশি টাকা খরচ করতে হবে।
চাঁদনি চক বাজারে বিক্রি হচ্ছে ‘ভূতের রাজা’র আলো। কালো চাকতির উপর তারা-আলো। সুইচ টিপলে অবিকল ‘ভুতের রাজা’র আবির্ভাবের প্রাক্কালে জ্বলে ওঠা তারার মতো দেখতে। বাবার হাত ধরে চাঁদনিতে আলো কিনতে আসা খুদের চোখে পড়েছে তারা জ্বলা আলো। দেখেই ভিড়ের মধ্যে লাফিয়ে উঠেছে। ‘বাবা, ওই দেখো ভূতের রাজা!’ দোকানি অত রাজা-রানি চেনেন না। তিনি দাম বোঝেন। বললেন, ‘এক পিস ৮০ টাকা। কম হবে না।’
হাজার রকমের আলো আর তার মধ্যে শুধুই মানুষের মাথা চাঁদনি বাজারে। কালীপুজো প্রাক্কালে এই দৃশ্য একেবারে চেনা। তার মধ্যে নিজের পছন্দের আলো খুঁজে পাওয়া ও দরদাম করা মুখের কথা নয়। কিন্তু ক্রেতাদের উপায় নেই! এভাবেই চলছে কেনাকাটা। তার মধ্যেই বারাসতের এক স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির খুদের চেঁচিয়ে ওঠা, ‘বাবা ভূতের রাজা, ভূতের রাজার আলো।’ দোকানদার বললেন, ‘আমরাই তৈরি করেছি। এ আলোর চাকতি গাড়িতেও লাগানো যাবে। আবার বাড়িতেও ঝোলানো যাবে। দাম ৮০ টাকা। সঙ্গে কিনতে হবে অ্যাডাপ্টর।’ ‘ভুতের রাজা’কে বাড়ি নিয়ে আসার সহজ উপায় কখনওই ছাড়তে রাজি নয় বাচ্চাটি। বাবা বোঝাতে থাকলেন, ‘এই আলো জ্বললে কিন্তু ‘ভুতের রাজা’ আসবে না।’ তবে যাই হোক, ছেলের চাই-ই চাই। একবার চেষ্টা করে দেখবে আসে কি না? অগত্যা উপায় নেই। আলো কিনতে এসে প্রথমেই স্টার লাইট কিনতে হল বাবাকে।
এদিকে আলো তো শুধু নয়, চাঁদনি চক বাজারে গেলে ‘ফটাস ফটাস’ বন্দুকের শব্দও কানে তালা ধরাবে। আবার বন্দুক ফাটানোর শব্দই শুধু নয়, সঙ্গে রয়েছে ‘চাইনিজ পটাকা’। এই ‘চাইনিজ পটাকার বিবর্তনও এবার চোখে পড়ল। পূর্বতন কালিপটকা যেন বৃহৎ রূপ নিয়ে এসেছে চাইনিজ পটাকা হয়ে। সেই পটাকায় আছে স্পিকার। বিদ্যুত্ সংযোগ করলেই সেই যন্ত্র যেমন জ্বলে উঠবে তেমনই বিকট আওয়াজ করে পটাকা ফাটারও শব্দ ছড়াবে। দাম শুরু আড়াই হাজার টাকা থেকে। কাজেই মধ্যবিত্ত খুব একটা ঘেঁষছে না।
যাই হোক আলোর উত্সবে হরেক রকমের আলো নিয়ে হাজির চাঁদনি। যেখানে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকার আলোর পসরা নিয়ে বসেছেন দোকানদাররা। ক্রেতারা ভিড় জমিয়েছেন। বিক্রেতারা বলছেন, ‘বাজার এবছর ভালোই তো আছে। লোকে তবে বহুত দরদাম করছেন। অনলাইন দেখে আসছেন। আর আমাদের দাম কমাতে বলছেন।’