Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

প্রাণ

প্রাণ
  • ২৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বস্রষ্টা করুণাময় পরমেশ্বর জীবজগতের কল্যাণের জন্য সূর্য, চন্দ্র, গ্রহতারকা, আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল, পৃথিবী, জরায়ুজ, অণ্ডজ, স্বেদজ ও উদ্ভিদ বৃক্ষলতাদি প্রাণী সৃজন করিয়াছেন। ভগবান্‌কে আমরা মঙ্গলময় বলি অর্থাৎ তাঁহার সকল কর্মই আমাদের মঙ্গলের জন্য যদিও সকল সময়ে আমরা বুঝিতে পারি না। যে সর্পবিষে প্রাণহানি ঘটে সেই সর্পবিষ ঔষধরূপে প্রযুক্ত হইয়া প্রাণ রক্ষা করে। কুক্কুর, শৃগাল ও গৃধ্র প্রভৃতি পশুপক্ষী পচা ও বিষাক্ত দ্রব্যাদি উদরসাৎ করিয়া দেশের উপকার করে। নরখাদক ব্যাঘ্রকেও রক্ষার জন্য রাষ্ট্রের প্রয়াস চলিয়াছে। ঈশ্বরসৃষ্ট সকল পদার্থের ভাল মন্দ দুই দিক আছে। সতর্ক হইয়া বুঝিয়া সদ্‌ব্যবহারে সুফল হয় এবং অসতর্ক হইয়া কুব্যবহারে কুফল হয়। আমাদের শাস্ত্রমতে ‘একোহহং বহুস্যাং’ ঈশ্বরই সৃষ্টির মধ্যে বহু হইয়াছেন। ঈশ্বরবুদ্ধিতে আকাশ, বায়ু, জল প্রভৃতিকে প্রণাম করিতে হয় (‘যৎকিঞ্চিৎ প্রণমেৎ’ ‘তব নিবাস জগৎপ্রণামে’—ভাগবত) অতএব পুষ্প তুলসী বিল্বপত্রাদির দ্বারা যেরূপ ঈশ্বরের শ্রীবিগ্রহসমূহকে অর্চনা করিতে হয় তেমন তাঁহার সৃষ্ট জল বায়ু প্রভৃতিকেও শ্রদ্ধার সহিত বিশুদ্ধ রাখার জন্য সকলের সর্বদা সচেষ্ট হওয়া কর্তব্য। যাহাতে স্নান পানের জল, বায়ু এবং প্রত্যেকের গৃহাদি এবং জনসমাজের ব্যবহারের স্থান কোনও প্রকারে দূষিত না হয় সে বিষয়ে রাষ্ট্রের, সমাজের ও পরিবারের প্রত্যেকটি ব্যক্তির বিচার বিবেচনা ও কর্তব্য পালন সব সময়ে করা উচিত। 

Advertisement

উপনিষদ্‌ ব্রহ্মকে আকাশোপম বলিয়া আকাশের স্তুতি করিয়াছেন এবং বায়ুকে প্রত্যক্ষ ব্রহ্ম নামে বন্দনা করিয়াছেন (‘নমস্তে বায়ো ত্বমেব প্রত্যক্ষং ব্রহ্মাসি’)। বৈদিক যুগে উপাসনার প্রধান অবলম্বন ছিলেন অগ্নি (‘অগ্নিমীলে পুরোহিতম্’)। বেদের মন্ত্রসমূহ জলের প্রশংসায় পরিপূর্ণ। (‘সন্নো আপো ধন্বন্যা’ ইত্যাদি) বেদে প্রাকৃতিক সকল বস্তুর বিশুদ্ধ অবস্থার বর্ণনার পাঠে মন আনন্দে ভরিয়া যায় “ওঁ মধু বাতা ঋতায়তে মধু ক্ষরস্তি সিন্ধবঃ। মাধ্বীর্নঃ সন্ত্যোষধীঃ মধুনক্তমূতষসো মধু দ্যৌ রস্তু নঃ পিতা। মধুমান্নো বনস্পতির্মধুমৎপার্থিবং রজঃ। ওঁ মধু ওঁ মধু ওঁ মধু”। অতএব যাহাতে প্রত্যেক গৃহ ও প্রত্যেক কলকারখানার বিবিধ যন্ত্রাদির পরিত্যক্ত মলিন বা বিষাক্ত বা জনস্বাস্থ্যহানিকর জলানি দ্রবীভূত পদার্থের মিশ্রণে পুষ্করিণী, নলকূপ, মাঠ, খাল ও নদী প্রভৃতির জল দূষিত না হয় এবং যাহাতে দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা ও মৃত প্রাণিদেহ প্রভৃতি এবং উৎক্ষিপ্ত বা ব্যবচত উগ্র রাসায়নিক পদার্থ নির্মিত মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র বোমা প্রভৃতির বাষ্পে বায়ুমন্ডল দূষিত না হয় সে বিষয়ে রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সমাজ ও মানব পরিবারের প্রত্যেকের ক্ষেত্রানুসারে বিশেষভাবে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা এবং কোনও কারণে জল, ভূমি বা বায়ু দূষিত হইলে তৎক্ষণাৎ তাহার প্রতীকারের দ্বারা বিশুদ্ধ সৃষ্টির উপায় ও তাহার প্রয়োগের জ্ঞান অত্যন্ত আবশ্যক, নচেৎ মানবজাতির মহতী বিনষ্টির সম্ভাবনা।
পণ্ডিতপ্রবর জ্যোর্তিময় নন্দের ‘জ্যোর্তিময় রচনাঞ্জলি’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ