নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিষ্টির দোকান। সংশোধনের কোনো সুযোগ না দিয়ে সরাসরি লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হচ্ছে। যার জেরে পুজোর মুখে বিপাকে পড়েছেন জেলার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের বিরুদ্ধে এমনই ‘অতি সক্রিয়তার’ অভিযোগ তুলে এবার বীরভূমের জেলাশাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দ্বারস্থ হলেন মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতির বীরভূম জেলা শাখার সদস্যরা জেলাশাসকের কাছে একটি ডেপুটেশন জমা দেন। তাঁদের মূল দাবি, জেলাজুড়ে অন্তত ১৫-২০টি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বা দোকান বন্ধ করার বদলে প্রশাসন বিষয়টিকে কিছুটা শিথিল করে ব্যবসায়ীদের সচেতন করার উদ্যোগ নিক।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সম্প্রতি রাজ্যজুড়েই ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান শুরু করেছে খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর। বীরভূম জেলাতেও সেই অভিযান চলছে। অভিযানে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রচুর অসঙ্গতি সামনে এসেছে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই অভিযানের নামে তাঁদের রীতিমতো হেনস্তা করা হচ্ছে। সমিতির জেলা সম্পাদক সঞ্জয় পোদ্দার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রশাসন যে পদক্ষেপ করছে, তা আদতে সচেতনতামূলক হওয়া উচিত। কিন্তু প্রশাসন অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরা যথেষ্ট সচেতনতার সঙ্গে কাজ করি। তবে অশিক্ষিত কর্মীদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কিছু ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। তার জন্য আমাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। আমরা শিখতে চাই। কিন্তু সামান্য কারণে দিনের পর দিন দোকান বন্ধ করে রাখা চূড়ান্ত হয়রানি। তাঁর আক্ষেপ, আচমকা দোকান বন্ধ করে দেওয়ায় ক্রেতাদের সামাজিক অনুষ্ঠানের অর্ডার বাতিল করতে হচ্ছে, যা চরম সমস্যার সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগী রামপুরহাটের মিষ্টি ব্যবসায়ী বিকাশকুমার মণ্ডলের অভিযোগ, ভেজাল বা খারাপ খাবার না পেলেও শুধুমাত্র ‘দোকানে ময়লা আছে’ এই যুক্তিতে গত ১০সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর দোকানটি বন্ধ করে দিয়েছে খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর। বিকাশবাবুর কথায়, ‘আমি নির্দেশমতো দোকান রং করেছি, পরিষ্কার করেছি। তবু আজ ১৬দিন ধরে দোকান বন্ধ। প্রতিদিন রামপুরহাটে অফিসে যাচ্ছি, কিন্তু আধিকারিকরা ভ্রুক্ষেপ করছেন না। এদিকে আমার দুধওয়ালা, ছানাওয়ালার কাজ বন্ধ, কর্মচারীদের বসিয়ে মাইনে দিতে হচ্ছে। চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। পুজো আসছে, আমরা চাই প্রশাসন নিয়মকানুন বলে দিক, আমরা মানব, কিন্তু দোকানটা খুলতে দেওয়া হোক।
যদিও খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, সিউড়ি বা রামপুরহাটের বেশ কয়েকটি নামী মিষ্টির দোকানে অভিযানের সময় চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখা গিয়েছে। মোরব্বার কাঁচামালে কিলবিল করছে পোকা। নোংরা হাতেই তৈরি হচ্ছে মিষ্টি। দোকানে মাছি ভনভন করছে। ফ্রিজে মিলেছে দীর্ঘদিনের মজুত থাকা বাসি দই, ছানা। মিষ্টিতে ক্ষতিকারক রং ও সুগন্ধির ব্যবহারও ধরা পড়েছে। এই গাফিলতি জনস্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক বলেই কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই বীরভূম জেলায়, বিশেষত রামপুরহাট মহকুমায় প্রায় ১৫-২০টি মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।