রামমোহন মেলার আয়োজন নিয়ে দুই বিজেপি বিধায়কের দড়ি টানাটানি
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: তৃণমূল আমলে স্থগিত হয়ে যাওয়া রামমোহন মেলার আয়োজন নিয়ে এবার দুই বিজেপি বিধায়কের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হল। গত রবিবার খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ রামমোহন মেলা নিয়ে একটি প্রস্তুতি বৈঠক করেন। সেদিন তিনি মেলার তারিখও ঘোষণা করেন। কিন্তু, শুক্রবার পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ তাঁর বিজয়া সম্মিলনিতে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে মেলার তারিখ ঠিক করবেন। রামমোহন মেলা নিয়ে বিজেপির হেভিওয়েট দুই নেতার পরস্পর বিরোধী মন্তব্যে মহকুমায় শোরগোল পড়েছে। আদৌ এই মেলা হবে কি না, হলেও তা কবে হবে, তা নিয়ে বাসিন্দাদের মনে ধন্দ তৈরি হয়েছে।

Advertisement

বিমানবাবু বলেন, রামমোহন মেলার তারিখ আর কয়েকদিন পরেই আমরা ঠিক করব। মুখ্যমন্ত্রী মেলা উদ্বোধন করতে আসবেন। তাই তাঁর সঙ্গে কথা বলে ডেট ঘোষণা করব। তৃণমূল রামমোহন মেলা বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে মেলার আয়োজনে আমি সচেষ্ট হলেও বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু, এবার আপনাদের অপেক্ষা শেষ হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা বিডিও, রামমোহন কলেজের অধ্যক্ষ, বিশেষ কয়েকজন ব্যক্তি, মহকুমা শাসক, জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে রামমোহন মেলার দিন ঘোষণা করব। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতিও নেব। একটু অপেক্ষা করুন। খুব তাড়াতাড়ি হবে। 
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিমানবাবু বলেন, মেলা মানে ছেলেখেলা নয়। আমার যেখানে কোনো দায়িত্বই নেই, সেখানে আমি মেলা ঘোষণা করে দিলাম, তা হয় না। যেখানে যার দায়িত্ব আছে, সেইমতো মেলা হবে। কলেজ মাঠে মেলা হয়। এলাকাটি আমার বিধানসভার মধ্যে পড়ে। ফলে আমার দায়িত্ব আছে। আমরা সব বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে মেলা করব। 
পালটা ওইদিন রাতে খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, রামমোহন মেলা তৃণমূল বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই মেলা আমরা আবার চালু করব। ইতিমধ্যেই খানাকুল-১ বিডিও অফিসে আমরা পুলিশ, প্রশাসন, এলাকার মানুষের মতামত নিয়েছি। ৬ থেকে ১২ জানুয়ারি এই মেলা হয়। সেটা গোটা রাজ্যের মানুষ জানে। তাই আমরা ওই সূচিতেই মেলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি উদ্বোধন করতে আসবেন বলে জানিয়েছেন। যাতে ওই সূচিতেই মেলা হয় তারজন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব। বিগত দিনে আমরা দেখেছি, খানাকুল থেকেই এই মেলা পরিচালনা হয়েছে। খানাকুল-১ ব্লকেরই এই মেলা। তাই মেলা আমরা ওইদিনই করব। তারজন্য আগামী ১২ নভেম্বর ম্যারাথন দৌড়ের আয়োজন করেছি। সবাই ওই ম্যারাথনে যোগ দিন। তিনি বলেন, রাজা রামমোহন রায়ের আদর্শ যাতে ছড়িয়ে দিতে পারি, তারজন্য সচেষ্ট থাকব। পুরশুড়ার বিধায়ক কী বলেছেন জানি না। তবে আমরা ৬ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মেলা করব। এনিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই।
রামমোহন মেলার আয়োজন নিয়ে দুই বিধায়কের মন্তব্য ঘিরে জল্পনা ছড়িয়েছে। এখন এই জল কতদূর পর্যন্ত গড়ায়, তার উপর রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।