সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: সুকনা সেনা ছাউনি সহ উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাকে সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেনার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থা বহিরাগত শত্রুদের চক্রান্ত মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
শনিবার শিলিগুড়ির সুকনা সেনা ছাউনিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি বাগডোগরা বায়ুসেনা ঘাঁটিতেও বায়ুসেনার আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। উৎসবের আবহে জওয়ানদের সঙ্গে মিলিত হয়ে তাঁদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান সময়ে যুদ্ধের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন রাজনাথ। সেনা জওয়ানদের উদ্দেশ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে যুদ্ধ বলতে সীমান্তে গোলাগুলি ও সরাসরি সংঘর্ষের ছবি সামনে আসত। কিন্তু বর্তমানে যুদ্ধের চরিত্র অনেকটা বদলে গিয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলা, ড্রোনের ব্যবহার ও বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর আক্রমণের আশঙ্কা বেড়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেনাবাহিনীকে নিজেদের প্রস্তুতি ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। সর্বদা সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়লেও সামরিক শৃঙ্খলা, সাহস ও মনোবলের কোনো বিকল্প নেই। একজন সাধারণ জওয়ানকে অসাধারণ যোদ্ধায় পরিণত করার পিছনে শৃঙ্খলার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সীমান্তবর্তী এলাকায় কর্মরত জওয়ানদের স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আচরণ ও যোগাযোগের বিষয়েও তিনি পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্য, সেনার প্রতি উত্তরবঙ্গের মানুষের বরাবরই গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ রয়েছে। জওয়ানরা স্থানীয়
বাসিন্দাদের সঙ্গে যত বেশি যোগাযোগ রাখবেন, পারস্পরিক আস্থা ততই দৃঢ় হবে। এর ফলে সীমান্তপারের ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যও ব্যর্থ করা সম্ভব হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও দীপাবলির প্রাক্কালে বায়ুসেনা ঘাঁটিতে গিয়ে জওয়ানদের সঙ্গে তিনি সময় কাটালেন। সেখানে জওয়ানদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দীপাবলির দিন গোটা দেশ উৎসাহ ও উদ্দীপনায় মেতে ওঠে। কিন্তু দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে জওয়ানদের অনেককেই পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়। তিনি বলেন, প্রতি বছর দীপাবলির সময় আমি জওয়ানদের মাঝে আসি। তাঁদের সাহস ও মনোবলকে কুর্নিশ জানাতেই এখানে আসা। জানি, উৎসবের দিনে আপনাদেরও পরিবারের কথা মনে পড়ে। তবুও দেশের সেবায় আপনারা নিরন্তর নিয়োজিত রয়েছেন। আপনারা পরিবারের থেকে দূরে থাকলেও আপনাদের পরিবারের দায়িত্ব সরকারের। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তারাবাতি জ্বালান রাজনাথ সিং।



