সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: মোবাইলে নেটওয়ার্কের সিগন্যাল রয়েছে, অথচ ফোন করা যাচ্ছে না কাউকে। হঠাৎ করেই কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে গোটা মোবাইল। এরই মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে একের পর এক উধাও হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। কেওয়াইসি আপডেটের নাম করে সাইবার প্রতারণার এমনই ফাঁদে পড়লেন ময়নাগুড়ি শহরের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ইতিমধ্যেই তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার ময়নাগুড়ি থানার সাইবার সহায়তা কেন্দ্রে হাজির হয়ে গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিত শিক্ষক হৃদয় কৃষ্ণ রায়।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হৃদয় কৃষ্ণ রায় জানান, গত ৪ তারিখ তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি আপডেট করতে হবে। যদিও প্রথমে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু পরদিন, অর্থাৎ ৫ তারিখ তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফাইল আসে। এরপর ফের ফোন করে তাঁকে জানানো হয়, কেওয়াইসি আপডেটের জন্য ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পাঠানো ফর্মটি পূরণ করলেই কাজ হয়ে যাবে। সেই বিশ্বাসেই হোয়াটসঅ্যাপে আসা ফাইলটি ডাউনলোড করেন তিনি। আর তারপরেই ঘটে বিপত্তি। মুহূর্তের মধ্যে হ্যাং হয়ে যায় তাঁর মোবাইল। ফোনে নেটওয়ার্কের সিগন্যাল থাকলেও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এরই মধ্যে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে পরপর টাকা কেটে নেওয়া শুরু হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে শনিবার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখায় গিয়ে গোটা ঘটনা জানান তিনি। ব্যাংকের তরফে তাঁর এটিএম পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। অভিযোগ, এরপর অন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে থাকা তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা কাটা শুরু হয়। এমনকী রবিবারও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ। পরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনায় কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। শেষ পর্যন্ত রবিবার ময়নাগুড়ি থানার সাইবার সহায়তা কেন্দ্রে পৌঁছে অভিযোগ জানান তিনি। কেওয়াইসি আপডেটের নামে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ফাইল ডাউনলোড করেই এমন বিপত্তি ঘটেছে বলে অভিযোগ হৃদয় কৃষ্ণ রায়ের। ঘটনাকে ঘিরে ফের একবার সাইবার প্রতারণা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।



