Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্দিদের শিক্ষার প্রসার ঘটাতে উপ সংশোধনাগারে চালু হচ্ছে লাইব্রেরি

বন্দিদের শিক্ষার প্রসার ঘটাতে উপ সংশোধনাগারে চালু হচ্ছে লাইব্রেরি
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: এবার সংশোধনাগারে লাইব্রেরি গড়ছে প্রশাসন। বন্দিদের শিক্ষার প্রসার ঘটাতে এমনই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আরামবাগ উপ সংশোধনাগারে শীঘ্রই সেই লাইব্রেরি খুলে যাবে। আপাতত শতাধিক বইয়ের রেক সাজিয়ে তা চালু করা হবে। ধাপে ধাপে বইয়ের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নিয়েছে আরামবাগ মহকুমা প্রশাসন। আরামবাগের মহকুমা শাসক রবি কুমার বলেন, শিক্ষা সকলের জন্যই প্রয়োজন। সংশোধনাগারের বন্দিদেরও তা দরকার। বই পড়লে তাদের মানসিক অবস্থার উন্নতিও সম্ভব। সেই জন্যই লাইব্রেরি তৈরি করা হচ্ছে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ উপ সংশোধনাগারের ভিতরেই একটি ঘরে লাইব্রেরি তৈরি হচ্ছে। একটি ঘর সংস্কার করে তাকেই লাইব্রেরি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ে বন্দিরা লাইব্রেরিতে এসে বই পড়তে পারবে। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, সাহিত্যমূলক বইপত্রই রাখা হবে। এজন্য বই সংগ্রহের কাজ চলছে। বিভিন্ন লেখকের গল্প, উপন্যাসের বইয়ের পাশাপাশি সেখানে লিটিল ম্যাগাজিনও রাখা হবে। 
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, উপ সংশোধনাগারের কারারক্ষীরাই বই বণ্টনের দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া বন্দিদের জন্য ক্যারম বোর্ড, লুডোর ব্যবস্থাও করছে প্রশাসন। 
উল্লেখ্য, আরামবাগ মহকুমায় বহু লাইব্রেরি রয়েছে। সেখানে আগের তুলনায় পরিকাঠামো বেহাল হয়েছে। একইসঙ্গে পাঠকের সংখ্যাও কমেছে বলে মত অনেকের। সেক্ষেত্রে জেল জীবনে বৈচিত্র্য আনতে লাইব্রেরি তৈরি নিয়ে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে অবশ্য সাধুবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। 
আরামবাগ মহকুমা গ্রন্থগারের প্রাক্তন গ্রন্থাগারিক বিভাংশু দত্ত বলেন, লাইব্রেরিতে এসে বই পড়ার প্রবণতা সাধারণ পাঠকের অনেকটাই কমেছে। মোবাইল নির্ভরতা বেড়েছে অনেক গুণ। এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রশাসন উপ সংশোধনাগারে লাইব্রেরি তৈরির উদ্যোগ নেওয়ায় ভালো লাগছে। সেখানে আবাসিকদের একমাত্র সঙ্গী বই। এর ফলে সেখানকার আবাসিকদের মধ্যে বইয়ের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপন হবে। বই পড়লে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা দুই হয়। তার সঙ্গে চেতনাও বাড়ে। তবে এর আগেও মহকুমা গ্রন্থাগার থেকে বই সংশোধনাগারে যেত। এবার লাইব্রেরি হয়ে গেলে আবাসিকরা নিজেদের পছন্দমতো বই পড়তে পারবে। আরামবাগ মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী বিকাশ রায় বলেন, প্রশাসনের লাইব্রেরি তৈরির উদ্যোগ খুবই ভালো। ভালো ভালো বই পড়ার ফলে আবাসিকদের মানসিক অবস্থার বদল ঘটতে পারে। এতে সমাজেরই লাভ হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, আরামবাগ উপ সংশোধনাগারে অধিকাংশই বিচারাধীন বন্দি থাকে। পুরুষের পাশাপাশি মহিলা আবাসিকরাও থাকে। নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে উভয়ের জন্যই লাইব্রেরিতে বই পড়ার ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ