Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ছাত্র-জনতার চাপে ঢাকা হল মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল

স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহেই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মুছে ফেলতে ‘তত্পরতা’ তুঙ্গে।

ছাত্র-জনতার চাপে ঢাকা হল মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল
  • ২৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

ঢাকা: স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহেই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মুছে ফেলতে ‘তত্পরতা’ তুঙ্গে। ‘জুলাই বিপ্লবে’র চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এই যুক্তি দিয়ে লালমণিরহাট শহরে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত ম্যুরাল কাপড় দিয়ে ঢেকে দিল প্রশাসন। ওই শহরের বিডিআর সড়কের পাশে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্মারক মঞ্চে ওই ম্যুরালটি রয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, ১৯৭১ সালের গণহত্যা, পাকিস্তানি সেনার আত্মসমর্পণের ছবি সহ বিভিন্ন ঘটনা ওই ম্যুরালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ম্যুরালটি নিয়ে আপত্তি তুলেছিল ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা’। আর তারপরেই তড়িঘড়ি সেটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ২৬ মার্চ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। ওই দিন সকালে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় একটি সংগঠনের সদস্যরা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ম্যুরালটিকে ঢাকা অবস্থায় দেখেন। তারপরই বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়। ওই মুক্তিযোদ্ধারা পরে অন্য একটি শহিদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান।

Advertisement

প্রশাসনের তরফে যে এই কাজ করা হয়েছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন লালমণিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার। তিনি জানান, জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ম্যুরালটি ঢেকে রাখা হয়েছে। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার তরফে কোনও চাপ দেওয়ার অভিযোগ মানতে চাননি তিনি। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসেও ম্যুরালটি একইভাবে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। 
বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁদের মধ্যে এস এম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, ‘বাঙালির ইতিহাসে এই ঘটনা নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ। লালমণিরহাট জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুফি মোহাম্মদ বলেন, ‘ম্যুরালটি যদি সময়ের সঙ্গে বেমানান হয়, তাহলে সংস্কার করা যেতে পারে। তবে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখাটা সার্কাসের মতো আচরণ।’

সম্পর্কিত সংবাদ