Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লাগাতার সচেতনতা প্রচারে যক্ষ্মায় মৃত্যুর হার কমল ঝাড়গ্রামে

লাগাতার সচেতনতা প্রচারে যক্ষ্মায় মৃত্যুর হার কমল ঝাড়গ্রামে
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর হার কমছে। বর্তমানে মৃত্যুর হার আট শতাংশ থেকে কমে ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। লাগাতার সচেতনতা প্রচার ও সরকারি প্রকল্প ‘নিক্ষয় পোষণ যোজনা’ ও ‘নিক্ষয় মিত্র’-র সফল রূপায়ণই এর অন্যতম কারণ বলে দাবি স্বাস্থ্যদপ্তরের। 
Advertisement
এই মুহূর্তে জেলাজুড়েএকশো দিন ব্যাপী সচেতনতা শিবির চলছে। যক্ষ্মা রোগীদের পুষ্টিকর খাবার দিতে ‘নিক্ষয় পোষণ যোজনা’ প্রকল্পে এককালীন ৩০০০ টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুষ্টির জোগান দিতে ‘নিক্ষয় মিত্র’ কর্মসূচি রয়েছে। এই প্রকল্পে জেলার সহৃদয় ব্যক্তিরা যক্ষ্মা রোগীদের পুষ্টিকর খাবারের দায়িত্ব নেন। নিক্ষয় মিত্ররা একজন রোগীকে প্রতিমাসে এক কেজি তেল, দু’ কেজি চাল বা ডাল দেওয়ার দায়িত্ব নিচ্ছেন। ফল, বিস্কুট ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাবারের বদলে চাইলে কেউ টাকাও দিতে পারেন। ছ’ মাসের টাকা এককালীনও দেওয়া যায়। যক্ষ্মা রোগীদের সর্বনিম্ন ছ’ মাস বা সর্বাধিক দু’ বছর পর্যন্ত দায়িত্ব নিতে হয়। কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা ‘নিক্ষ্ময় মিত্র’-এর ভূমিকা পালন করতে পারে। দায়িত্ব পালন করতে গেলে স্বাস্থ্যদপ্তরের পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করাতে হয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করছেন। জেলায় ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৭৯৮ জন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারমধ্যে ১০৮ জনের মতো রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। তবে যক্ষ্মাকে কব্জায় আনতে বাড়ি বাড়ি স্ক্রিনিং শুরু হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের নিক্ষয় মিত্র কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের বক্তব্য, জেলার সমস্ত যক্ষ্মা রোগীদের চিহ্নিত করাই প্রথম কাজ। পরবর্তী ধাপ চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা। জেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ যক্ষ্মা নির্মূলকরণ প্রচেষ্টায় শামিল হচ্ছেন। জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ সঞ্চিতা ঘোষ ১৭৭ জন যক্ষ্মা রোগীর দায়িত্ব নিয়েছেন। বিনপুরের বিধায়ক দেবনাথ হাসদা দায়িত্ব নিয়েছেন কুড়ি জন রোগীর। এই প্রচেষ্টায় জেলায় যক্ষ্মা রোগীর মৃত্যুর হার আট শতাংশ থেকে নেমে চার শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জেলার সিএমওএইচ ভুবনচন্দ্র হাঁসদা বলেন, জেলায় যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা এখনও যথেষ্ট সংখ্যক বেশি। সকলকেই নিক্ষয় মিত্র কর্মসূচির মধ্যে আনা হয়েছে।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ