Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লাগাতার মনিটরিংয়ে জেলায় ডেঙ্গুতে লাগাম

লাগাতার মনিটরিংয়ে জেলায় ডেঙ্গুতে লাগাম
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত কয়েক বছরে কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছিল না ডেঙ্গু। লাফিয়ে বাড়ছিল সংখ্যাটা। তাই এবার বছরের প্রথম থেকে শক্তহাতে হাল ধরেছিল জেলা প্রশাসন। তারই ফল মিলল হাতেনাতে। লাগাতার মনিটরিংয়ে মরশুম শেষে ডেঙ্গুতে লাগাম টানতে সক্ষম হল জলপাইগুড়ি। গতবার যেখানে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯৯১ জন, এবার তা অনেকটাই কমে দাঁড়িয়েছে ৬১৫’তে। শুধু তাই নয়, ডেঙ্গুতে কোনও মৃত্যুও নেই এবার। গত কয়েকদিনের পরিসংখ্যান বলছে, শীত পড়ে যাওয়ায় এখন আর নতুন করে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে না। এতেই হাফ ছেড়ে বেঁচেছে প্রশাসন। 
Advertisement
জলপাইগুড়ি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অসীম হালদার বলেন, এবার এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬১৫। গতবারের তুলনায় যা অনেকটাই কম। 
তবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমায় স্বাস্থ্যদপ্তরের পাশাপাশি জেলাশাসক শমা পারভীনের বিশেষ অবদান রয়েছে বলে স্বীকার করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, বছরের প্রথম থেকেই ডেঙ্গু পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখেছিলেন ডিএম। লাগাতার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি প্রতিটি ডেঙ্গু কেস নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে নিজে পদক্ষেপ করেছেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। নষ্ট করা হয়েছে ডেঙ্গু মশার লার্ভা। এতেই কাজ হয়েছে। 
২০২২ সালে জলপাইগুড়িতে ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেবার আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩৯৫৬ জন। এমনকী ডেঙ্গুতে ওই বছর মৃত্যুও হয়েছিল চারজনের। সেবার জেলার মধ্যে সবথেকে বেশি আক্রান্ত ছিল মাল ব্লকে, ১১৬৭ জন। হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল মালবাজারের বাগরাকোট। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় রাজ্য থেকে বিশেষ টিম এসেছিল জলপাইগুড়িতে। 
গতবারও মরশুমের প্রথম থেকে জলপাইগুড়িতে আক্রমণাত্মক মেজাজে থাবা বসাতে শুরু করে ডেঙ্গু। ময়দানে নেমে ব্যবস্থা নিতেই জেলায় প্রায় হাজারের ঘর ছুঁয়ে ফেলে ডেঙ্গু। কিন্তু এবার বছরের শুরুতেই জেলাশাসক কড়া বার্তা দেন, যেভাবেই হোক ডেঙ্গুর গ্রাফ নিম্নমুখী করতে হবে। সেইমতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জুনে অবশ্য প্রতিবারের মতো এবারও জেলায় ডেঙ্গু কিছুটা বেপরোয়া হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে তা রুখে দেন। 
দু’দিন আগে জেলার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে অবশ্য জেলাশাসক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হাতগুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। এসময় খোলা জায়গায় যত খালি পাত্র পড়ে রয়েছে, তা সরিয়ে ফেলার কাজ সেরে ফেলতে হবে। প্রতিটি এলাকায় পরিচ্ছন্নতায় জোর দিতে হবে। এলাকা ভিত্তিক নিয়মিত স্বাস্থ্যশিবিরও করতে হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ