Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লোগো থাকলেও পরিচিতি পায়নি ডুয়ার্সের চা, মন খারাপ নিয়ে মরশুম শেষের দিন ১৫০ বছর উদ্‌যাপন

লোগো থাকলেও পরিচিতি পায়নি ডুয়ার্সের চা, মন খারাপ নিয়ে মরশুম শেষের দিন ১৫০ বছর উদ্‌যাপন
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বেশ কয়েকবছর আগে তরাই ও ডুয়ার্সের চায়ের জন্য আলাদা লোগো দিয়েছে টি বোর্ড। কিন্তু ডুয়ার্স চায়ের যে নিজস্ব ব্র্যান্ড আছে, সেটাই জানেন না ক্রেতারা। কারণ খাতায়-কলমেই থেকে গিয়েছে ওই লোগো। ব্র্যান্ড নেমে আজও পরিচিতি পায়নি ডুয়ার্সের চা। অসম চায়ের ‘ফিলার’ হিসেবে বাজারে বিক্রি হওয়ায় ডুয়ার্সের সিটিসি চা ভুলেছে নিজের পরিচিতি। যেকারণে কার্যত ‘দুয়োরানি’র তকমা পাওয়া এই চায়ের বিপণনে অধরা থেকে গিয়েছে বিদেশের বাজার। অথচ এক-দু’দিনের নয়, ডুয়ার্সের চায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেড়শো বছরের ইতিহাস। ফলে একপ্রকার মন খারাপ নিয়েই এবার ৩০ নভেম্বর, মরশুম শেষের দিন উদ্‌যাপন হতে চলেছে ডুয়ার্স চায়ের সার্ধ শতবর্ষ। এই ‘সেলিব্রেশনে’ও অবশ্য একাংশের বাগান মালিকদের অনীহার ছাপ। যে উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল বড় বাগানগুলির, কার্যত হাতগুটিয়ে রয়েছেন তাঁরা। গোটা দেশের সামনে ডুয়ার্স চা’কে তুলে ধরতে এগিয়ে এসেছেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। তাঁদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে লাটাগুড়িতে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দেশের বড় বড় চা কোম্পানির পাশাপাশি দেশ বিদেশের চা রপ্তানিকারকদের। থাকবেন টি বোর্ডের প্রতিনিধিরাও। 
Advertisement
জলপাইগুড়ি ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, আমাদের একটাই দাবি, অসম চায়ের ‘ফিলার’ হিসেবে নয়, ব্র্যান্ড নেমে পরিচিতি পাক ডুয়ার্সের চা। আমরা চাই, দেড়শো বছরে নিজের পরিচিতি খুঁজে পাক ডুয়ার্সের দু’টি পাতা একটি কুঁড়ি। তাঁর আক্ষেপ, ডুয়ার্সে অন্তত ১৬টি বাগানে যে চা উৎপাদন হয়, গুণমানের নিরিখে তা অসমের চা’কে টেক্কা দিতে পারে। কিন্তু আমরা দেশ বিদেশের যেখানেই যাই না কেন, দেখা যায়, দার্জিলিং চা, অসম চা এমনকী নীলগিরি চা নিজস্ব ব্র্যান্ডে বিক্রি হচ্ছে। অথচ ডুয়ার্স চা বলে কোনও ব্র্যান্ড নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখের। 
এদিকে, টি বোর্ডের দাবি, তারা ডুয়ার্স তরাইয়ের চায়ের জন্য লোগো দিয়েছে। এবার বাজারে চাহিদা ও পরিচিতির ব্যাপারে চা ব্যবসায়ীদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। 
১৮৭৪ সালে হাউটন সাহেব গজলডোবায় চা বাগান পত্তন করেন। সেটাই ছিল জলপাইগুড়ি তথা ডুয়ার্সের প্রথম চা বাগান। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার মিলিয়ে বড় বাগানের সংখ্যা ১৮৩টি। তরাইয়ে রয়েছে ৮৫টি চা বাগান। সঙ্গে ছোট বাগান কয়েক হাজার। বাগান মালিকদের বক্তব্য, ফি-বছর দেশে মোট চায়ের ৩৩ শতাংশ উৎপাদন হয় ডুয়ার্সে। তারপরও সেই চায়ের কোনও নিজস্ব পরিচিতি নেই। 
ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা অমৃতাংশু চক্রবর্তীর গলায় আক্ষেপের সুর। বলেন, চা উৎপাদন করেন একজন। কিন্তু সেই চা বিপণন করে অন্য গোষ্ঠী। চায়ের বাজার কখনওই বাগান মালিকরা নিয়ন্ত্রণ করেন না। ফলে ডুয়ার্সের চা আদৌও ব্র্যান্ডে বিক্রি হবে কি না তার অনেকটাই নির্ভর করছে বিপণন সংস্থার উপর।  
সম্পর্কিত সংবাদ