Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্নাতকে পাশ-ফেল পদ্ধতি শিথিল করার দাবি তুলে উপাচার্যকে চিঠি

স্নাতকে পাশ-ফেল পদ্ধতি শিথিল করার দাবি তুলে উপাচার্যকে চিঠি
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতকে পাশ-ফেল পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার আর্জি নিয়ে উপাচার্যকে চিঠি দিল পূর্ব মেদিনীপুরের আটটি কলেজের টিএমসিপি ইউনিট। ওই চিঠিতে শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছে। এর আগে সংগঠনের পক্ষ থেকে এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অধ্যক্ষ সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককেও এনিয়ে চিঠি দিয়েছে ছাত্র সংগঠন। কলেজে ড্রপ আউট সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে টিএমসিপি সেমেস্টার পর্যায়ে ফেল পদ্ধতি তুলে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে। যাদবপুর থেকে কলকাতা, বারাসাত ইউনিভার্সিটি থেকে স্বশাসিত পাঁশকুড়া বনমালী কলেজেও সেমেস্টার স্তরে ছাত্রছাত্রীদের আটকে রাখা হয় না। কিন্তু, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমেস্টারে ছ’টির মধ্যে তিনটি কিংবা তার বেশি বিষয়ে পাশ নম্বর না পেলে পরবর্তী সেমেস্টারে ওঠা যায় না। এই নিয়মের কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী ড্রপ আউটের শিকার বলে ছাত্র সংগঠনের মত।

Advertisement

প্রতি বছর কলেজে ছাত্র সংখ্যা কমছে। বিদ্যালয়ের অধীন ৫২টি কলেজে মোট ৭৪ হাজার আসন রয়েছে। এবছর মাত্র ১৮ হাজার ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের অনেকেই ড্রপ আউট হন। অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, সেমেস্টারে পাশ-ফেল পদ্ধতি এই ড্রপ আউটের একটি অন্যতম কারণ। আগে সিবিসিএস(চয়েস বেসড ক্রেডিট সিস্টেম) মডেল অনুযায়ী উচ্চশিক্ষায় পঠনপাঠন হতো। ওই মডেলে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা অধিকাংশ বিষয়ে পাশ নম্বর না পেলেও পরবর্তী সেমেস্টারে তুলে দেওয়া হয়। ফাইনাল সেমেস্টারের আগে ফেল করা বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু, ২০২৩ সাল থেকে জাতীয় শিক্ষানীতি(এনইপি) চালু হয়েছে। এই মডেল চালু হওয়ার পর প্রত্যেক ইউনিভার্সিটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের মতো করে পাশ-ফেল গাইডলাইন তৈরি করেছে। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক সেমেস্টারে ছ’টি করে বিষয় রয়েছে। তিন কিংবা তার বেশি বিষয়ে পাশ নম্বর না পেলে পরবর্তী সেমেস্টারে ওঠা যায় না। একই সেমেস্টারে আরও ছ’মাস থাকতে হয়। এর ফলে ফেল করা পড়ুয়াদের মধ্যে ড্রপ আউটের প্রবণতা বাড়ছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা আবেদন আলি খান, সুমন দাস বলেন, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে এরাজ্যের অন্য ইউনিভার্সিটির মতো পাশ-ফেল পদ্ধতিতে শিথিলতা আনা হোক। এই দাবিতে আমরা উপাচার্যের দ্বারস্থ হয়েছি। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে নজর দিলে ড্রপ আউটের মতো একটি জ্বলন্ত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ