Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মমতাকে চিঠি, তৃণমূল ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, সুদীপ, সায়নীকে সরানো হল দলীয় পদ থেকে

তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা মানস ভুঁইয়া দল ছাড়লেন, সায়নী ও সুদীপকে পদ থেকে সরানো হল। রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

মমতাকে চিঠি, তৃণমূল ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, সুদীপ, সায়নীকে সরানো হল দলীয় পদ থেকে
  • ১৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে ‘বিদ্রোহ’ অব্যাহত! এই আবহে সরাসরি দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। শনিবার তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ছাড়ার কথা জানিয়ে দেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থেকে সাতবারের বিধায়ক মানস এবার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে হেরে যান। একদা কংগ্রেসে থাকলেও পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। তবে কি রাজনীতি থেকেই সন্ন্যাস নিচ্ছেন তিনি? এই প্রশ্নে তিনি  বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমার একটাই কথা বলার, যারা রাজনীতি এবং সমাজসেবার কাজ করেন, তাঁরা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে যান।’ ফলত তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জোর জল্পনা চলছে সংশ্লিষ্ট মহলে। 

Advertisement

এর মধ্যেই যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দিল তৃণমূল। যুব তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভপতির পদে ছিলেন সায়নী। তাঁর জায়গায় ওই পদে আনা হয়েছে নতুন মুখ অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুধু সায়নী নয়, কলাকাতা উত্তরের সাংসদ তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল শনিবার। তিনি ছিলেন উত্তর কলকাতা তৃণমূলের চেয়ারম্যান। ওই পদে আনা হয়েছে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। তৃণমূলের সাংসদরা দিল্লিতে যে পৃথক ব্লক তৈরি করছেন, সেখানে নাম লিখিয়েছেন সায়নী ঘোষও। বিভিন্ন সূত্র মারফত এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই বিতর্ক ও জল্পনা চলছিল। বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে যুব তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কর্মীরা নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলছিলেন। এই আবহে খবর ছড়ায়, সায়নী দিল্লিতে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। কলকাতা বিমানবন্দরে তিনি যেভাবে মুখ ঢেকে নেমেছিলেন, তাতেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। বিরোধী ব্লকে নাম লেখানো ও কর্মীদের বিদ্রোহ—এই দুই কারণ পর্যালোচনা করে তাঁকে শেষ পর্যন্ত পদ থেকে তৃণমূল সরিয়ে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে শনিবার বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাড়িতে বৈঠক করতে দেখা যায়। এই ঘটনা সামনে আসার পর সুদীপকেও উত্তর কলকাতা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। সেখানকার কোর কমিটিও ভেঙে দিয়েছেন মমতা।
এদিকে, কুণাল ঘোষ ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুমুল বাগবিতণ্ডা ঘিরে উত্তপ্ত তৃণমূলের অন্দরমহল। সূত্রের খবর, দলের কর্মসমিতির বৈঠকে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, দুর্দিনে যাঁরা দলের জন্য কাজ করছেন, তাঁদের স্বীকৃতি বা দায়িত্ব দেওয়া হোক। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই দু’জন বচসায় জড়িয়ে পড়েন। কেন তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে নিয়ে কুণাল সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন, তাও জানতে চান ‌঩ভিষেক। পালটা কুণাল জানান, সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করায় তিনি জবাব দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়। প্রথমে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। পরে আসরে নামতে হয় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি দু’জনের মাথায় হাত রেখে ‘কুল’ থাকার পরামর্শ দেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ