সংবাদদাতা, কাঁথি: রাজ্য বাজেটে ঘোষণার পর দু’বছর পেরিয়ে গেল। কিন্তু এখনও ‘সমুদ্রসাথী’ প্রকল্পে ভাতা পেলেন না উপকূলের মৎস্যজীবীরা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে অবিলম্বে ভাতা দেওয়ার দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে চিঠি পাঠাল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মৎস্যজীবী ফোরাম। কেন এখনো মৎস্যজীবীরা এই ভাতা পাচ্ছেন না-শুক্রবার পাঠানো চিঠিতে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
জেলা সহ মৎস্য-অধিকর্তা(সামুদ্রিক) সুমন সাহা বলেন, এবিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো নির্দেশ আসেনি। যেমন নির্দেশ আসবে, সেইমতো আমরা কাজ করব। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে উপকূলের মৎস্যজীবীদের জন্য সমুদ্রসাথী প্রকল্প ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। ওই বছর ফেব্রুয়ারিতে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য রাজ্য বাজেটে এই ঘোষণা করেছিলেন। প্রতিবছর ১৫এপ্রিল থেকে ১৪জুন পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া নিষিদ্ধ। যাকে বলা হয় ‘ব্যান পিরিয়ড’। সেসময় মৎস্যজীবীরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। তাই ব্যান পিরিয়ডের সময় মৎস্যজীবীদের পরিবারপিছু দু’মাসে পাঁচহাজার টাকা করে ১০হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে মৎস্যজীবীরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু এখনও তাঁরা টাকা পাননি।পূর্ব মেদিনীপুর মৎস্যজীবী ফোরামের সম্পাদক দেবাশিস শ্যামল বলেন, দু’বছর পেরিয়ে গেলেও সমুদ্রসাথী প্রকল্পের সুবিধা মেলেনি। এবারের রাজ্য বাজেটেও এই প্রকল্পের উল্লেখ নেই। তাহলে প্রকল্পটি কি শুধু নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল? আমাদের দাবি, তাড়াতাড়ি সমুদ্রসাথী প্রকল্পের রূপায়ণ করে মৎস্যজীবীদের ভাতা দিতে হবে। মৎস্যজীবী সংগঠনের মহিলা নেত্রী শ্রীদেবী কর ভুঁইয়া বলেন, আমরা এর আগে নভেম্বর মাসে এই দাবিতে জেলার উপকূলে ৭০কিমি পদযাত্রা করেছি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছি, কেন এই প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ হয়নি। তাই এবার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হল। আমরা অর্থমন্ত্রীর কাছেও চিঠি পাঠাব।
সমুদ্রসাথী প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় ইতিমধ্যে প্রচার শুরু করেছে বিজেপি। ওই দলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, ঘোষণা করেও মৎস্যজীবীদের জন্য একটি টাকাও বরাদ্দ করেনি তৃণমূল সরকার। এটা নির্বাচনি ভাঁওতা। আমরা প্রচারে গিয়ে মৎস্যজীবীদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরছি। রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা কী বলছে, জানি না। তবে সমুদ্রসাথী প্রকল্প চালু করার জন্য রাজ্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।