নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: গবাদির শরীরে মিলল লেপ্টোস্পাইরার জীবাণু! যা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে রাজগঞ্জে। ইঁদুরবাহিত এই রোগটি বাগে আনতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর। ঠিক কীভাবে রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা অঞ্চলের সাত-আটটি গ্রামে ইঁদুর-জ্বর ছড়িয়ে পড়ল, তার কারণ খুঁজতে গিয়েই কার্যত চক্ষু চড়কগাছ প্রশাসনের। আক্রান্তদের বাড়িতে থাকা গবাদির শরীর থেকে রক্ত নিয়ে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। যতগুলি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তার ৭০ শতাংশের রিপোর্টই পজিটিভ এসেছে। অর্থাৎ, তাতে লেপ্টোস্পাইরার জীবাণু মিলেছে বলে প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে খবর।
এদিকে, রাজগঞ্জের গিরণগঞ্জের বাসিন্দা এক যুবকের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর বাবার দাবি, ছেলে প্রথমে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। এরপর তাঁকে ভর্তি করা হয় রাজগঞ্জ হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষা করে রক্তে লেপ্টোস্পাইরার জীবাণু মেলে। হাসপাতাল থেকে বলা হয়, ছেলের জন্ডিস হয়েছে। পরবর্তীতে রাজগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে ছেলেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে রেফার করা হয়। বৃহস্পতিবার সেখানে ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ঠিক কী কারণে ছেলে মারা গেল বুঝতে পারছি না। রাজগঞ্জের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক রাহুল রায় বলেন, ওই যুবকের কী কারণে মৃত্যু হল, রিপোর্ট না দেখে তা বলা সম্ভব নয়।
এদিকে, রাজগঞ্জের আক্রান্ত গ্রামগুলিতে গবাদির শরীরে লেপ্টোস্পাইরার জীবাণু মিলতেই ঘুম ছুটেছে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের। যেসব গবাদির রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, সেগুলিকে আলাদা করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকরা। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ অধিকর্তা অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, রাজগঞ্জে ওই এলাকা থেকে আমরা বেশকিছু গবাদির রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলাম। এরমধ্যে কিছু রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের সহকারী অধিকর্তা একান্তিকা মণ্ডল বলেন, লেপ্টোস্পাইরার জীবাণু বহনকারী ইঁদুরের মূত্র কোনওভাবে জলে মিশেছে। সেই জল হয়তো গবাদি পশু খেয়েছে। আবার গবাদির মূত্র কোনওভাবে জলে মিশেছে। এভাবেই রোগটি ছাড়াতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রোগ দমনের পাশাপাশি কীভাবে ইঁদুরকে বাগে আনা যায়, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
সূত্রের খবর, ইঁদুর ধরতে খাঁচা কেনার তোড়জোড় চলছে প্রশাসনিক মহলে। সেইসঙ্গে রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটায় অবস্থিত মুরগি ফার্ম কর্তৃপক্ষকে মালদহে একটি সরকারি ফার্ম ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে ওই ফার্মে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তারাও যাতে তা অনুসরণ করে সেব্যাপারে বলা হয়েছে।