Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লক্ষ্মীপাড়ায় সর্দারের কান ছিঁড়ে নিল চিতাবাঘ, নাগেশ্বরীতে লড়াই করে প্রাণে বাঁচলেন শ্রমিক

একইদিনে চিতাবাঘের জোড়া হানা। জলপাইগুড়ি জেলার দুই বাগানে চরম চাঞ্চল্য। বানারহাটের লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানে এক সর্দারের কান ছিঁড়ে নিয়ে গেল একটি চিতাবাঘ।

লক্ষ্মীপাড়ায় সর্দারের কান ছিঁড়ে নিল চিতাবাঘ, নাগেশ্বরীতে লড়াই করে প্রাণে বাঁচলেন শ্রমিক
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: একইদিনে চিতাবাঘের জোড়া হানা। জলপাইগুড়ি জেলার দুই বাগানে চরম চাঞ্চল্য। বানারহাটের লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানে এক সর্দারের কান ছিঁড়ে নিয়ে গেল একটি চিতাবাঘ। অন্যদিকে, মাটিয়ালি ব্লকের নাগেশ্বরী চা বাগানে চিতাবাঘের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণ বাঁচালেন এক শ্রমিক। মঙ্গলবার চৈত্রের দুপুরে জোড়া চিতার হানায় আতঙ্কে তটস্থ চা শ্রমিকরা। জখমদের  চিকিত্সার দায়িত্ব নিয়েছে বনদপ্তর।

Advertisement

স্থানীয় ও বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানের সর্দার গুদাম লাইনের বাসিন্দা আগনু ওরাওঁ (৫৩)। তিনি এদিন দুপুরে ১৮ নম্বর সেকশনে একটি নালার সামনে দাঁড়িয়ে শ্রমিকদের কাজ দেখাশুনা করছিলেন। সেই সময় আচমকাই নালা থেকে একটি চিতাবাঘ সর্দারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চিতাবাঘটি তাঁর কানে থাবা বসিয়ে দেয়। চিতাবাঘের থাবায় আগনু ওরাওঁয়ের কান ছিঁড়ে যায়। এই ঘটনা দেখে অনান্য শ্রমিকরা চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেন। তখনই চিতাবাঘটি ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়। অন্য শ্রমিকরা জখম সর্দারকে উদ্ধার করে সুলকাপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। তবে চা বাগানের ওই সেকশনে প্রায় দু’ঘণ্টা আতঙ্কে কাজ বন্ধ থাকে। এই ব্যাপারে ডায়নার রেঞ্জার অশেষ পাল বলেন, চিতাবাঘের থাবায় একজনের কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর চিকিৎসার ব্যয়ভার বনদপ্তর বহন করছে। 
অন্যদিকে, এদিন যেন কোনও রোমহর্ষক সিনেমার দৃশ্যের সাক্ষী থাকল মাটিয়ালি ব্লকের নাগেশ্বরী চা বাগান। একেবারে চিতাবাঘের সঙ্গে লড়াই করে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন চা শ্রমিক সমীর খেরিয়া। বছর আঠাশের সমীর বাগানেপ ভুসুর লাইনের বাসিন্দা। প্রতিদিনেপ মতো এদিনও পাতা তোলার কাজ করছিলেন। হঠাৎই একটি চিতাবাঘ তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সমীর হাতের কাছে পড়ে থাকা চা গাছের ডাল চিতাবাঘের মুখেই ঢুকিয়ে দেন। সঙ্গে অনবরত চিতাবাঘের নাকে ঘুসি চালাতে থাকেন। ‘যুদ্ধে পরাস্ত হচ্ছে’ বুঝতে পেরে লেজ গুটিয়ে চম্পট দেয় চিতাবাঘটি। এরপর ‘বিজয়ী’কে উদ্ধার করে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিত্সা চলছে। সেখানেও প্রায় ঘণ্টাখানেক কাজ বন্ধ ছিল। খুনিয়ার রেঞ্জার সজলকুমার দে বলেন, সমীর খেরিয়া নিজের সাহসিকতার জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী তাঁর চিকিৎসা চলছে।  জখম লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানের সর্দার। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ