নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আলু চাষে সম্পূর্ণ রূপে আত্মনির্ভর হতে চায় রাজ্য। রাজ্যে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদন হলেও আলুর বীজের জন্য আজও চাষিরা মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন পাঞ্জাবের। পাঞ্জাব থেকে আনা আলুবীজেই চাষ হয়। এই পরনির্ভরতা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছেন রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ী এলাকায় আলুর বীজ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষিদপ্তর। দপ্তরের আশা, একবার সফল হলে বাংলার চাষিদের আলুর বীজ নিয়ে আর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।
আলুর পাশাপাশি উন্ননমানের ধান উৎপাদনেও বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলার ধান বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল আর্থিক মুনাফা করতে চায় রাজ্যের বিজেপি সরকার। সাম্প্রতিক কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল দিল্লি গিয়েছিলেন। সেখানেই অনেকটা কথা বার্তা এগিয়েছে। জানা গিয়েছে, সুগন্ধী চাল তৈরির জন্য এক বৃহৎ রাইস মিল গড়ার প্রস্তাব দিয়েছে বহুজাতিক সংস্থা। তার জন্যই দুই বর্ধমানের মধ্যে উপযুক্ত জমির সন্ধান করছে কৃষিদপ্তর। এমনকী ফলন বাড়াতে গোবিন্দভোগ চালের জিনের পরিবর্তন ঘটাতেও সাফল্য এসেছে বলে মন্ত্রী দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এবার দ্বিগুণ ফলন হবে গোবিন্দভোগ চালের। ধান গাছের আকার বৃদ্ধি পাবে। বৃহস্পতিবার ব্যক্তিগত কাজেই আসানসোল এসেছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। তখনই ‘বর্তমান’-কে নিজের এক গুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান লড়াকু এই বিজেপি নেতা। তিনি নিজেও একজন চাষি। তিনি বলেন, এখানকার চাষিদের সব সমস্যাই আমার জানা। আলু চাষিদের মুখ্য সমস্যা আলুবীজ পাওয়া। তাই আমাদের রাজ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে আলুর বীজ তৈরি করার সম্ভব। তিনি বলেন, পরবর্তী বর্ষা থেকেই টার্গেট নিয়ে গোবিন্দভোগ ও তুলাইপাঞ্জি চালের চাষ করা হবে। এই দু’টি চাল বিদেশে রপ্তানি করার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। রাইস মিল গড়ার জন্য আমরা জমি দেখছি।