সঞ্জয় সরকার: ‘তার সম্পর্কে লিখো না। বর্ণনা করার চেষ্টাও করো না, শুধুই তার খেলা দেখো।’ প্রাক্তন ছাত্র লায়োনেল মেসিকে নিয়ে এমনই মন্তব্য করেছিলেন পেপ গুয়ার্দিওলা। অথচ বাঁ পায়ের জাদুকরকে সঠিক বর্ণনা করার জন্য তিনিই যোগ্যতম। তাঁর সামনেই লা মাসিয়া থেকে বার্সেলোনায় পথ চলা শুরু লিওর। পেপের প্রশিক্ষণেই নিজেকে বিকশিত করেন আর্জেন্তাইন মহাতারকা। বাকিটা ইতিহাস। আজও মেসির সাফল্যের নেপথ্যে লা মাসিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। অথচ রবিবার বিশ্বকাপে ফাইনালে সেই আঁতুরঘর থেকে বেড়ে ওঠা একঝাঁক ফুটবলারের বিরুদ্ধেই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামবেন মেসি। কোথাও যেন তাঁর আর বিশ্বকাপের মধ্যে এখন বাধা শুধুই লা মাসিয়া।
চলতি বিশ্বকাপে স্পেন স্কোয়াডে রয়েছেন মোট আটজন লা মাসিয়ার ছাত্র। লামিনে ইয়ামাল, পাও কুবার্সি, ড্যানি ওলমো, মার্ক কুকুরেয়া, গাবি, এরিক গার্সিয়া, আলেজান্দ্রো গ্রিমাল্ডো ও ভিক্টর মুনোজ—এঁরা প্রত্যেকেই মেসিকে সামনে রেখে বড়ো হয়েছেন। ফাইনালে সেই আইডলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আগে তাই যথেষ্ট আবেগতাড়িত স্পেন ফুটবলাররা। একই ছবি বার্সেলোনার ‘এসেস মাসিয়া’ নামাঙ্কিত ওই ধূসর বাড়িতে। ১৬ বছর আগেও বিশ্বকাপে ছিল লা মাসিয়ার দাপট। ২০১০ সালে সেবার জাবি, ইনিয়েস্তা সহ স্পেন স্কোয়াডে ছিলেন ৯ জন ফুটবলার। এবারও সংখ্যাটা সমান। তবে পার্থক্য একটাই, লড়াইটা এক বনাম আটের। আসলে এই ফাইনালটা লা মাসিয়ার ‘অতীতের সঙ্গে বর্তমান ও ভবিষ্যতের’ মহাকাব্যিক লড়াই।
মেসি নিজেও এমন এক ফাইনালের স্বপ্ন দেখতেন। ২০০৫ সালে দেশের জার্সিতে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে সোনার বুট ও বল জিতেছিলেন লিও। পরের বছরই সিনিয়র দলের জার্সিতে প্রথমবার মেগা আসরে খেলার সুযোগ পান। তার আগে এক সাক্ষৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি চাই আর্জেন্তিনা বনাম স্পেন বিশ্বকাপ খেতাবি লড়াইয়ে নামুক।’ অবশেষে দু’দশক বাদে তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। আর সেই লড়াইয়ের আগে প্রস্তুতিতে খামতি রাখছেন না বাঁ পায়ের জাদুকর। শনিবার আর পাঁচটি দিনের মতোই ট্রেনিং শুরু করেন তিনি। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে তাঁর পা থেকে ঝলসে ওঠে একের পর এক আগুনের গোলা। যা দেখে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কোচ স্কালোনির মুখে মুচকি হাসি। রবিবার নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়ামে এই ঝলকই তো দেখার আশায় গোটা বিশ্ব। আশায় বার্সেলোনার ওই খামারবাড়িও।