শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: বাবা জুটমিলের কর্মী। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। বাড়তি রোজগারের আশায় রাত জেগে সেলাইয়ের কাজ করেন মা। রিষড়ার অভিষেক প্রসাদের কাছে ফুটবলই বাঁচার অক্সিজেন। ধনেখালির অতনু মুর্মুও একই নৌকোর যাত্রী। তোবড়ানো টিনের চালে লড়াইয়ের গল্প জমে। বিশাল যুবভারতী দেখে ওদের চোখে বিস্ময়। শনিবার অভিষেক-অতনুর স্বপ্নপূরণের দিন। ২০ জন খুদে ফুটবলারের ক্লাস নেবেন খোদ লিও মেসি। তার আগে পাখিপড়া পড়াচ্ছেন কোচ। ডান পায়ে বল নাচিয়ে অভিষেক বলে, ‘মেসি স্যারকে প্রণাম করতে চাই।’ লিও আসছেন। চলেও যাবেন। রিষড়ায় অভিষেকদের ভাঙা ঘর আলোকিত হবে চাঁদের সৌজন্যে। তাতে মিশে বড় হওয়ার স্বপ্ন। এটাই বা কম কী? নীল-সাদা জার্সি গায়ে যুবভারতীতে চরকিপাক খাচ্ছিলেন অ্যানা ব্ল্যাঙ্কো। নয়াদিল্লির আর্জেন্তিনা দূতাবাসের কর্মী। মেসির টানে বান্ধবীর সঙ্গে উড়ে এসেছেন কলকাতায়। এলএমটেনের কথায় নেচে ওঠে চোখের তারা। ভাঙা ইংরেজিতে বললেন, ‘গোট ইজ কামিং। মাই ড্রিম।’ অবাক চোখে যুবভারতীর ছবি তুলে রাখলেন অ্যানা। কোথায় নয়াদিল্লির ঝকঝকে দূতাবাস। কোথায় বা রিষড়ার এঁদো গলি। মেসি ক্যারিশ্মায় সব ব্যবধান ধুয়েমুছে সাফ।
মেসিবরণের ফিনিশিং টাচ চলছে যুবভরতী জুড়ে। বিশাল কাট-আউট, নীল সাদা ফ্ল্যাগ, গমগমে লাউডস্পিকারে কলকাতা না মায়ামি বোঝা মুশকিল। টানেলের একপাশে নীল-সাদা কাপড়ে মোড়া বিশাল গেট। সূত্রের খবর, বাইপাস সংলগ্ন হোটেল থেকে সরাসরি গাড়িতে মাঠে প্রবেশ করবেন মেসি। মেগা সংবর্ধনার বিশাল মঞ্চে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও শাহরুখ খান। কিং খানের হাতে নিজের সই করা জার্সি তুলে দেবেন খোদ লিও। শুধু তাই নয়, শাহরুখের বিশ্রামের জন্য যুবভারতীতে রাতারাতি তৈরি হচ্ছে স্পেশাল রুম। সবমিলিয়ে কর্মযজ্ঞে দম ফেলার সময় নেই কর্মীদের। কাউন্টডাউন শুরু। এবার শুধু কিংবদন্তির মাঠে পা দেওয়ার অপেক্ষা। পালস বুঝে সকাল ৭টায় খুলে দেওয়া হচ্ছে যুবভারতীর ছ’টি গেট। পুলিশ সূত্রের খবর, হেলমেট ও বাইনোকুলার নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইএমবাইপাসের পরমা আইল্যান্ড থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকছে। গাড়ি পার্কিং ও ট্রাফিক ডাইভারশন তালিকা বিধাননগর কমিশনারেটের ফেসবুক পেজে থাকছে। শনিবার সকালে যুবভারতীতে মিশবে কলকাতা। তাই হাতে একটু সময় নিয়ে বাড়ি থেকে বেরনোই বাঞ্ছনীয়।