Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিধানসভার ডায়েরি

জোর করে কারও জমি অধিগ্রহণ করা হবে না। রাজ্য সরকারের স্পষ্ট নীতি। এই অবস্থায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে জমি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হলে, কী করতে হবে, তার নির্দেশিকা সেচদপ্তরকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিধানসভার ডায়েরি
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের রুট বদল!
জোর করে কারও জমি অধিগ্রহণ করা হবে না। রাজ্য সরকারের স্পষ্ট নীতি। এই অবস্থায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে জমি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হলে, কী করতে হবে, তার নির্দেশিকা সেচদপ্তরকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘জমি নিয়ে সমস্যা হলে চেষ্টা করুন রুটটা ঘুরিয়ে দিতে, যাতে মানুষের বসতি পরিবর্তন করতে না-হয়। আর চটপট কাজ করতে গিয়ে তা যেন খারাপ হয়ে না-যায়।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৫ বছর ধরে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ঝুলিয়ে রেখেছিল কেন্দ্র। এরপর রাজ্য সরকার দেড় হাজার কোটি বরাদ্দ করে প্রকল্পের বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়েছে। আগামী দু’-তিনবছরের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

Advertisement

বন্যা ও ডিভিসি
রাজ্যে যে বন্যা হয়, তার বেশিরভাগই ‘ম্যান মেড’। এমনটাই অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, কাউকে না জানিয়ে প্রতিবছর ডিভিসি জল ছেড়ে দেয়। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, গঙ্গা অ্যাকশন, নদী ভাঙন রোধ এবং বন্যানিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের আওতাভুক্ত। কিন্তু এসব কাজে কেন্দ্র বাংলাকে এক পয়সাও দেয় না। বাংলাই একমাত্র রাজ্য, যাকে ধারাবাহিকভাবে বঞ্চনা হচ্ছে। আর বন্যাপরিস্থিতির ফলে ভেসে যাচ্ছে ঘাটাল, আরামবাগ, খানাকুল, পাণ্ডুয়া, গড়বেতাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রতিবছর দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।

ল্যান্ড রিফর্মস অ্যান্ড টেন্যান্সি বিল
মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে পাস হল দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ল্যান্ড রিফর্মস অ্যান্ড টেন্যান্সি ট্রাইবুন্যাল অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৫। বিলটি বিধানসভায় পেশ করেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। জমি ও ভাড়াটিয়া সংক্রান্ত দ্রুত মামলার নিষ্পত্তিতে এই বিল আনা হয়েছে। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বচ্ছতা এবং কমিটি গঠনের উপর। বিলের উপর আলোচনায় অংশ নেন তৃণমূল বিধায়ক মহম্মদ আলি ও সুকান্ত পাল। বিজেপির কোনও বিধায়ক আলোচনায় অংশ নেননি। 

বিধানসভার গণ্ডগোল নিয়ে তদন্ত
বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে মার্শাল ও নিরাপত্তারক্ষীদের ধস্তাধস্তির ঘটনার তদন্ত করে দেখছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ঘটনার একটি রিপোর্ট দেওয়া হবে। বিধানসভার যে সমস্ত নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন, তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা (বিজেপি) গন্ডগোল করেছেন, তাঁরাই আবার নিরাপত্তারক্ষীদের নামে এফআইআর করেছেন! প্রসঙ্গত, বিধানসভার সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় কী করা হবে, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় অনেক বিধায়কের বেতন কাটা হয়েছিল। এখন আমি বলছি না কারও বেতন কাটা হোক। কিন্তু স্পিকার সিনিয়ার আইনজীবী, নিশ্চয় কোনও ব্যবস্থা তিনি নেবেন।

হাজিরায় পুরস্কার বিধায়কদের
বিধানসভার অধিবেশনে যে বিধায়ক সবচেয়ে বেশি উপস্থিত থাকবেন, তাঁকে পুরস্কৃত করা হোক। স্পিকারের কাছে এই আবেদন রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে স্পিকার বলেন, ‘বিধায়করা ঘরে বসে গল্প করেন। অধিবেশন কক্ষে আসেন না। এমন অভিযোগও এসেছে। এটা যেন না-হয়।’

সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা
 ‘লক্ষ্য করছি, ইদানীং অনেক সেতু ভেঙে পড়ছে। আমরা সব সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছি।’—বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ