নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: লড়াই ২০২৬ সালে হলেও রণাঙ্গনে শুধুই ইতিহাস। হুগলির পাণ্ডুয়া বিধানসভা আসনে এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখে রাজনৈতিক মহল বলছে, প্রার্থীদের কারণেই এই লড়াই ‘ঐতিহাসিক’ হয়ে উঠতে চলেছে। পাণ্ডুয়ার বামপ্রার্থী আমজাদ হোসেন একদা একা কুম্ভ হয়ে বামগড় রক্ষা করেছিলেন। একবার নয়, দু’বার। এবারও আমজাদ সাহেব প্রার্থী সিপিএমের। ২০২১ সালে প্রথমবার সবুজ পতাকা উড়েছিল পাণ্ডুয়ায়। সেখানে এবার ঘাসফুলের প্রার্থী ‘জায়ান্ট কিলার’ সমীর চক্রবর্তী (বুয়া)। ২০১৬ সালে বাঁকুড়ার তালডাংরা বিধানসভা আসনে দাঁড়িয়ে তিনি সিপিএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অমিয় পাত্রকে প্রায় ১৪ হাজার ভোটে পরাজিত করেছিলেন।
ফলে, দুই ওজনদার প্রার্থীর লড়াইকে ঘিরে তপ্ত হয়ে উঠছে পাণ্ডুয়ার ভূখণ্ড। ইতিহাস আছে আরও একটা। পাণ্ডুয়াতেই এবার প্রার্থী হয়েছেন বিজেপির একদা জেলা সভাপতি তুষার মজুমদার। অতীতে নির্বাচনে লড়লেও জয়ের ‘ইতিহাস’ নেই তুষারবাবুর। তিনি বলেন, এবার নতুন ইতিহাস তৈরি হবে পাণ্ডুয়ায়।
২০১১ সালে বাংলায় সবুজ ঝড় উঠেছিল। বদলেছিল সরকার। সেবার তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও পাণ্ডুয়ার ‘লালগড়’ অটুট ছিল। জিতেছিলেন আমজাদ। ২০১৬ সালেও আমজাদের হাত থেকে পাণ্ডুয়া কাড়া যায়নি। হুগলির একমাত্র পাণ্ডুয়াতেই শিবরাত্রির সলতে হয়ে টিকে ছিল বামেরা। আজ অবশ্য সেসব অতীত। ২০২১ সালে পাণ্ডুয়া দখল করেন তৃণমূলের প্রবীণ নেত্রী রত্না দে নাগ। ফলে জেতা আসন ধরে রাখা, আর হারা আসনে লড়াই যে এক জিনিস নয়, তা ভালোমতই জানেন আমজাদ। তিনি বলেন, অতীতের সুগন্ধী মেখে এবারের নির্বাচনে লড়তে চাই না। লড়াই কঠিন। তাই শূন্য থেকে শুরু করতে চাই। তবে হ্যাঁ, তৃণমূলের অপশাসন আর বাম আমলের সুশাসনের কথা তো নাগরিকদের মনে করিয়ে দিতেই হবে। অর্থাৎ ইতিহাস থাকছেই। সেখানেই চকচকে অতীত নিয়ে ময়দানে নেমেছেন তৃণমূলের সমীর চক্রবর্তী। কলকাতার বিধাননগরের বাসিন্দাকে পাণ্ডুয়ার রণভূমিতে জেতা আসন ধরে রাখার দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালে বাঁকুড়ার তালডাংরা আসন কেমন ছিল? ২০১১ সালে তৃণমূল-সুনামিতেও ওই আসন জিতেছিল সিপিএম। ২০১৬ সালে প্রার্থী হয়েছিলেন ‘অপরাজেয়’ অমিয় পাত্র। সেই লালমাটিতে প্রথমবার ঘাসফুল ফুটিয়েছিলেন সমীর চক্রবর্তী। সুবক্তা, সংগঠক সমীর স্পষ্টই বলছেন, সেবার হারা আসন জেতার লড়াই ছিল। আর এখানে জেতা আসন ধরে রাখার লড়াই। দু’টি ভিন্ন প্রেক্ষাপট। এখানে ঘাসফুল ফোটাতে তৈরি আছেন মানুষ। পাণ্ডুয়ার অতীত নাম ছিল প্রদ্যুন্ম নগর। এখনও সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে এখানকার মিনার। ইতিহাসের ময়দানে ‘অতীত’কে নিয়েই লড়ছেন প্রার্থীরা। কেউ ইতিহাস ফেরাতে, কেউ বা নতুন করে ইতিহাস গড়তে।