সোহম কর, কলকাতা: বিরোধীরা বলে, বামপন্থীদের পাড়ায় বা বুথে যতটা না দেখা যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি দেখা যায় ফেসবুকে। তাদের যত আলোচনা, যুক্তিজাল বিস্তার—সবটাই সামাজিক মাধ্যমে। ‘ফেসবুক পার্টি’ হয়ে যাওয়াতেই ভোট পায় না বামেরা। যদিও সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই মনে করে, তারা এখনও ‘নেটে’ কম, ‘হেঁটে’ বেশি আছে! তাই ‘নেটে’ আরও বেশি করে উপস্থিতি জানান দিতে এবং নতুন আঙ্গিকে হাজির হতে বিশেষজ্ঞকে দিয়ে কর্মশালার আয়োজন করল এসএফআই। সংগঠনের রাজ্য দপ্তরে আয়োজিত এই কর্মশালায় অংশ নিলেন এসএফআই রাজ্য কমিটির সদস্যরা। শুধু তাই নয়, ছাত্রদের বদলে যাওয়া মনন বোঝার জন্য মনোবিদকে দিয়ে আরও একটি কর্মশালা করানো হয়েছে।
হঠাত্ সামাজিক মাধ্যম নিয়ে কর্মশালার প্রয়োজন পড়ল কেন সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের? এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলছেন, ‘এআই কীভাবে ব্যবহার করতে পারি, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার কীভাবে তৈরি করতে হয়, এই সমস্ত বিষয় নিয়েই কর্মশালা হয়েছে। বিজেপি-আরএসএস সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে যে ধরনের জিগির তৈরি করছে, তার মোকাবিলা করতে গিয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকার জন্যই এই পদক্ষেপ।’ এর পাশাপাশি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের বদলে যাওয়া মনন, চিন্তাভাবনা বুঝতেও কর্মশালা করা হয়েছে। এসএফআই নেতৃত্বের দাবি, প্রায় প্রতিটি ব্যাচের পড়ুয়াদের মন-মানসিকতায় কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। সেই মানসিকতা বুঝে তাঁদের সঙ্গে আরও বেশি করে যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশেই মনোবিদকে দিয়ে কর্মশালার আয়োজন হয়েছে। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে বামেদের উপস্থিতি নিয়ে তো কোন প্রশ্ন ছিল না। বরং পাড়ায়, বুথে সক্রিয়তায় খামতির কথা শোনা যায়। এই অবস্থায় আবার সেই ‘নেট’ নিয়েই কর্মশালা কেন? দেবাঞ্জন এই কথা মানতে চাননি। তিনি বলেন, ‘এই বদনাম কারা করল, জানি না। এসএফআই প্রতিদিন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, মাদ্রাসায় লড়াই করছে। পাশাপাশি, এই উত্তর-আধুনিক যুগে ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়ায় লড়াইও চলছে। আমরা বরং হেঁটেই বেশি আছি।’ তাঁর স্বগতোক্তি, ‘আসলে সামাজিক মাধ্যমে অ্যালগরিদমের প্যাঁচ বোঝাটাই মূল বিষয়।’