নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ মিড মে মিল কর্মী যৌথ সংগ্রাম কমিটি বিভিন্ন দাবি নিয়ে মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল। শিয়ালদহ থেকে মিছিল আসে সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যারে। সেখান থেকে শুরু হওয়া মিছিল এস এন ব্যানার্জি রোডে আটকায় পুলিস। সেখানেই প্রায় তিন ঘণ্টা পথসভা ও অবস্থান করেন তিন বাম শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরা। তার জেরে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। শিয়ালদহ থেকে অনেক মানুষকে হাঁটা পথে ধর্মতলায় আসতে দেখা যায়। স্কুল ছুটির সময় পড়ুয়ারাও সমস্যায় পড়ে।
এস এন ব্যানার্জি রোডেই পুলিসের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন নেতৃত্ব। অবশেষে সিটু, এআইসিসিটিইউ ও এআইইউটিইউসি অনুমোদিত মিড মে মিল কর্মী সংগঠনের ৬ জনের প্রতিনিধি দলকে নবান্নে ডেপুটেশন দিতে যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিস। সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিনিধিরা যতক্ষণ না ফিরে আসছেন রাস্তাতেই থাকবেন আন্দোলনকারীরা। ঠিক কী দাবি নিয়ে অভিযান? পশ্চিমবঙ্গ সংগ্রামী রন্ধনকর্মী মিড ডে মিল ইউনিয়নের সম্পাদক জয়শ্রী দাস বলেন, ‘আমরা উত্সবকালীন ভাতা চাই। অবসরকালীন ভাতা চাই। ১২ মাস কাজ করে কেন আমাদের ১০ মাস মাইনে পেতে হবে? মূলত এই দাবিগুলি নিয়েই আমাদের আন্দোলন।’ নেতৃত্বের দাবি, এদিন নবান্নে আধিকারিকরা প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেন। তিন দিনের মধ্যে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতির আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে।
মিছিলের জেরে তীব্র সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা এস এন ব্যানার্জি রোড বন্ধ থাকার ফলে সমস্ত ধর্মতলাগামী বাস ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক যাত্রীকেই মাঝপথে নেমে গন্তব্যের উদ্দেশে হাঁটতে হয়। এস এন ব্যানার্জি থেকে ধর্মতলা মোড়ে যাওয়ার জন্যও নিউ মার্কেট ঘুরে যেতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে অজস্র মানুষ ধর্মতলা অভিমুখে হাঁটতে থাকেন। স্কুল ফেরত পড়ুয়াদের নিয়ে মায়েরা ঘেমে নেয়ে ধর্মতলায় আসতে থাকেন। রাস্তা বন্ধের খবর পেয়ে শিয়ালদহ থেকে অনেকেই মেট্রো ধরে হাওড়া স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেন। রোদের মধ্যে আন্দোলনকারীরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি বলছিলেন, ‘আমরা জানি না মেট্রো চালু হয়েছে। শিয়ালদহ থেকে হেঁটে ধর্মতলায় এলাম। এখন হাওড়া যাব। ট্রেন আদৌ পাব কিনা জানি না।’