Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ীদের মন বুঝলেন বাম নেতারা, সন্তানদের জন্য বাংলা মাধ্যম স্কুল

পরিযায়ী শ্রমিকদের মন বুঝতে বেঙ্গালুরু ছুটলেন সিপিএমের শ্রমিক নেতারা। শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন বাঙালি মহল্লায় শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেন নেতারা।

বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ীদের মন বুঝলেন বাম  নেতারা, সন্তানদের জন্য বাংলা মাধ্যম স্কুল
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

সোহম কর, কলকাতা: পরিযায়ী শ্রমিকদের মন বুঝতে বেঙ্গালুরু ছুটলেন সিপিএমের শ্রমিক নেতারা। শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন বাঙালি মহল্লায় শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেন নেতারা। নেতৃত্ব বলছেন, সমস্যা বলতে মূলত, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের চোখ রাঙানি। অভিযোগ, প্রায়ই  মহল্লায় গিয়ে আধার কার্ড দেখে তারা। এর সঙ্গে শ্রমিকদের সন্তানরা যাতে বাংলা পড়তে পারে, তাই বেঙ্গালুরুর হোয়াইট ফিল্ডে সিআইটিইউ খুলেছে বিকল্প পাঠশালা। সেখানে বেঙ্গালুরুতে কর্মরত এরাজ্যের আইটি কর্মীরা পড়াচ্ছেন।

Advertisement

২০১১ সালের আগেও সূক্ষ্ম কাঠের কাজ, গয়নার কাজ, এসি, দর্জির কাজ করতে বাংলা থেকে বাইরে যেতেন শ্রমিকরা। গত ১০-১২ বছরে বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন এলাকায় বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বস্তি গড়ে উঠেছে। সেখানে তাঁরা পরিবার নিয়েই থাকেন। মূলত নির্মাণকর্মী, গিগ ওয়ার্কার, সাফাইকর্মীরা রয়েছেন। মহিলারা গৃহ সহায়িকা, রান্নার কাজ করেন। মূলত মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও মালদহেরই বাসিন্দা তাঁরা। আর একাংশে স্কিলড শ্রমিকরা থাকেন। সিআইটিইউ অনুমোদিত ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সম্পাদক আশাদুল্লাহ গায়েন বলছিলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জল, বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। আমরা এখানে অনেকদিন ধরে আসছি। বিজেপি আমলে বস্তি দখলের মতো ঘটনা ঘটেছে। এখন আগের থেকে কমলেও স্বঘোষিত হিন্দুত্ব সংগঠনগুলোর উপদ্রব রয়েছে। তারা আধার কার্ড দেখতে চায়। মুখের ভাষা বাংলা শুনলেই ‘বাংলাদেশি’ বলে। দুপুরবেলা এসে মেয়েদের হুমকি দেয়। এখানকার মূল সমস্যা নিরাপত্তা। পুলিশ ততটা তত্পর নয়।’ 
হোয়াইট ফিল্ড, ব্রুক ফিল্ডসহ প্রায় ১০-১২টা বস্তি রয়েছে এখানে। ১০ বাই ১০ ফুটের টিনের দেওয়ালের ঘরের ভাড়া প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। নদীয়ার বেথুয়াডহরির বাসিন্দা মর্জিনা বিবি বলছিলেন, ‘আমি পাঞ্জাবি, মালয়ালম, ওড়িয়া ও তেলুগু বাড়িতে রান্না করি। মাসে ২৫ হাজার টাকা রোজগার হয়।’ শ্রমিক নেতারা মনে করছেন, পুলিশে বলে কাজ হচ্ছে না। তাই সংগঠিত প্রতিরোধ দরকার। সব বস্তিতে কমিটি হয়েছে। বার্তা দেওয়া হয়েছে এক থাকার। 

সম্পর্কিত সংবাদ