নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মনোনয়ন প্রক্রিয়া জমার দিনেই আসানসোলের শক্তি প্রদর্শন বামেদের। বিগত দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের জোট সঙ্গী কংগ্রেসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সিপিএম প্রথমবার একক শক্তি প্রদর্শন করল বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে। এদিন সিপিএমের হাতকে শক্ত করতে বিপুল সংখ্যায় সিপিআই,ফরওয়ার্ড ব্লকের কর্মী, সমর্থকরা হাজির ছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল কংগ্রেসের জোট ভাঙলেও আইএসএফের সঙ্গে জোট রয়েছে বামেদের। বারাবনি আসনে আইএসএফ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এদিন তাঁদের কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও তাঁদের শৃঙ্খলায় বাঁধতে সিপিএমের নেতাদের বারবার ঘোষণা করতে দেখা গিয়েছে।
এদিন কর্মী, সমর্থকদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উপস্থিতি দেখে সিপিএম জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের সমর্থন ছাড়া রাজ্যে শক্তিশালী সরকার গঠন অসম্ভব। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো সরকার গড়তে সিপিএম বা বিজেপি কার হাত শক্ত করবে বামেরা সেই প্রসঙ্গ কোনো মন্তব্য করেননি।বুধবার সকালে বাম ও আইএসএফ কর্মী, সমর্থকরা আসানসোলের রবীন্দ্রভবনের সামনে জমায়েত হন। সেখানে রবীন্দ্রনাথের মূর্তিতে মাল্যদান করে জিটি রোডে একটি র্যালি করে। লাল বেলুন ও সিপিএম, সিপিআই এর দলীয় পতাকায় সুসজ্জিত ছিল শোভাযাত্রা। তেমনই আইএসএফের খাম চিহ্নযুক্ত পতাকাও দেখা গিয়েছে র্যালিতে। মিছিলটি ভগত সিং মোড় পর্যন্ত যায় সেখান থেকে ফের বিএনআর মোড় ঘুরে আসে। তারপর আসানসোল উত্তরের বাম প্রার্থী অখিলেশ কুমার সিং বিএনআর মোড় থেকে আসানসোল মহকুমা অফিস পর্যন্ত যান। আসানসোল দক্ষিণের সিপিএম প্রার্থী শিল্পী চক্রবর্তী, জামুড়িয়ার প্রার্থী মহম্মদ সাব্বির হোসেন, ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী ভবানী আচার্য কর্মী, সমর্থকদের নিয়ে আসানসোলের জেলাশাসকের অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন। আসানসোলে বাম ও আইএসএফের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দেখা গেলেও দুর্গাপুরে অনাড়ম্বর ভাবেই মনোনয়নপত্র জমা করেন সিপিএম প্রার্থীরা। দুর্গাপুর পূর্বের সিপিএম প্রার্থী সীমান্ত চট্টোপাধ্যায়, দুর্গাপুর পশ্চিমের সিপিএম প্রার্থী প্রভাস সাঁই, রানিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী নারায়ণ বাউরি এবং পাণ্ডবেশ্বরের প্রার্থী প্রবীর মণ্ডল দূর্গাপুর মহকুমা শাসকের অফিসে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা করেন। মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছেন বারাবনির আইএসএফ প্রার্থী বিশ্বজিৎ বাউরী।-নিজস্ব চিত্র